আড়কাঠি
ওবায়েদ হক
প্রচ্ছদ : কৃষ্ণেন্দু মণ্ডল
ছাইয়ের স্তুপের পাশে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল নরেন। দেহে কোন উদ্দীপনা অবশিষ্ট নেই তার। তার প্রচণ্ড ইচ্ছা হল, এখানেই পড়ে মরে থাক সে, তার লাশ পচে এই রুক্ষ মাটিতে মিশে যাক, অথবা তার দেহটা কোনো মাংসাশী প্রাণীকে শিকারের কষ্ট থেকে মুক্তি দিক, তাকে সপরিবারে ভোজন করুক। সেই মুহূর্তে সে সিদ্ধান্ত নিল এখান থেকে সে আর নড়বে না, এখানেই ডুবে যাবে। এই সবুজের ভয়াল সমুদ্রে সে আর ভেসে থাকতে পারবে না।
তারপর কত সময় পার হয়েছে, পৃথিবী কতবার ঘুরেছে নরেন তা জানে না। কত কীট, সরীসৃপ তার শরীরে নিরাপদ বিচরণ করেছে, সে টের পেয়েছে তবুও নড়েনি। ধীরে ধীরে সে মাটি হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন সে শুনতে পেল টিয়া পাখির ডাক, এই ডাকে সে আর চোখ বন্ধ করে রাখতে পারল না। ধীরে ধীরে চোখ খুলে দেখল লাল পেড়ে সাদা শাড়ি শরীরে জড়িয়ে শ্যামল রঙের এক নারী তার দিকে ঝুঁকে তাকে মনোযোগ দিয়ে দেখছে। মেয়েটার কাঁধে একটা রঙীন টিয়া, পাখিটিও আগ্রহ নিয়ে তাকে দেখছে। নরেনের মুখে একটা প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল, ঠোঁটগুলো প্রাণ ফিরে পেল, শুকনো কণ্ঠে নরেন বহুকষ্টে একটা মাত্র শব্দ উচ্চারণ করতে পারল, বিমলা...
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি