ভারতীয় লোকনাট্যে ভূতকোলা ও যক্ষগান
অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়
তুলুনাডুর কোলে-দক্ষিণ কন্নড়, উদুপি আর কাসারগড়ের চন্দ্রগিরি নদী ঘেঁষে থাকা সেই ক্রান্তীয় ভূভাগে-ভূত কোলা কেবল এক উৎসব নয়, বরং এই অঞ্চলের মানুষের স্মৃতি, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার এক প্রাচীন পরিসর। পশ্চিমঘাটের সবুজ আর আরব সাগরের নোনা বাতাসে ঘেরা এই ভূমিতে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় রক্ষক আত্মাদের আহবান, যাঁদেরকে মানুষ দেবতার মর্যাদায় মানে। তাঁদের উপাসনা চলে বৈদিক রীতির সীমানা ছাড়িয়ে, এক নিজস্ব লোকপরম্পরার গভীর আচার-সংস্কারে-যেখানে দেবত্ব কোনো মন্ত্রে নয়, প্রকাশ পায় নৃত্য, মুখোশ আর বিশ্বাসের জাগরণে। এখানে দৃশ্যমান হন সেই রক্ষক ভূতেরা যাঁরা মানুষের দেহ আর নাচকে মুহূর্তের জন্য নিজের উপস্থিতির মাধ্যম করে নেন। আর ঠিক এই একই উপকূলের আরেক কোণে, ভোরের আলো বা রাতের প্রদীপে যখন যক্ষগানের দল মঞ্চে ওঠে, তখন বোঝা যায়- লোকশিল্প কতভাবে মানুষের জীবনকে আঁকতে পারে। যক্ষগান শুধু নাটক নয়- পাঁচশো বছরেরও বেশি সময় ধরে বয়ে চলা এই লোকসংস্কৃতিতে আছে সুরের বিজ্ঞান, নাচের তেজ, সংলাপের ধার, কৌতুকের খেলাধুলা, আর মঞ্চকলার চমৎকার প্রকৌশল। সংস্কৃত, কন্নড় ও তুলুর মিলনপথে জন্ম নেওয়া এই শিল্পে আঞ্চলিক সাহিত্য ও পরিবেশনার নানা ধারা এমন স্বাভাবিকভাবে মিশে গেছে যে, তা এক অনন্য নাট্যরূপের জন্ম দিয়েছে।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি