লোকসংস্কৃতির আলোকে বাংলা মঙ্গলকাব্য
দীপঙ্কর মল্লিক
এটি গবেষণা গ্রন্থ। বছরের পর বছর ফিল্ড ওয়ার্ক করে লোকসংস্কৃতির নানা উপাদান প্রমাণ সাপেক্ষে তুলে আনা হয়েছে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য পাঠের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্যে।
মঙ্গলকাব্য যতখানি না ধর্মসাহিত্য তার থেকে অনেক বেশি সমাজতত্ত্বের আকর গ্রন্থ হিসেবে। বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে জানতে হলে মঙ্গলকাব্যের পাঠ অপরিহার্য হয়ে ওঠে। তুর্কি বিজয়ের পর অস্থির সমাজ পরিবেশের উষর জমি থেকে মঙ্গলকাব্যের ছোটো ছোটো কয়েকটি গাছ সদ্য সতেজ সবুজ পাতা মেলে ধরে। ধীরে ধীরে সেই গাছ বনস্পতির রূপ ধারণ করে। কে জানতো সেসব বনস্পতি থেকে এত ফুল ও ফল পাওয়া যাবে।
কি নেই মঙ্গলকাব্যের মধ্যে ? আপনি বাঙালিদের সকাল থেকে সন্ধ্যাবেলা কীভাবে অতিবাহিত হত সেই খবর জানতে চান ? আপনি কি খুঁজতে চান একটি সদ্যজাত শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর পনেরো শতক থেকে আঠারো শতকের বাঙালিরা কি কি আচার বিচার সংস্কার প্রথা মানত ? আপনি কি জানতে চান, অষ্টকলায় কী ? নবনত্তা কী ? একুশ্যা কী ? জানতে চান কোন্ ভীতি মনস্তত্ত্বের কারণে ভাগ্যলিখনে এতখানি বিশ্বাস করত মধ্যযুগের বাঙালিরা ?
মধ্যযুগের বাঙালিদের বিবাহের রীতি-নীতি কেমন ছিল? কী ধরনের দেশাচার, স্ত্রী-আচার ও সংস্কার মানা হত ? কেন মেয়ের মা বিয়ের পর জামাই বশীকরণের জন্যে গোপনে ছুটত তান্ত্রিকের কাছে ?
কেন মধ্যযুগের মানুষ এত অসংখ্য টোটেম ট্যাবুতে বিশ্বাস করত ?
এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে,মঙ্গলকাব্য সবদিক থেকেই মাটির সম্পদ। এখানেই প্রথম লোকায়ত মানুষের জীবনের কথা শোনা যায়।
মঙ্গলকাব্যে জনজাতি সংস্কৃতি ও লোকায়ত জীবন সংস্কৃতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়। সেইসব অজানিত তথ্যের নির্দেশ দেবে সুদীর্ঘ গবেষণালব্ধ এই বইটি।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি