ফাঁসি
(পনেরোটি সত্য কাহিনি)
সুজিত রায়
প্রচ্ছদ - সপ্তদীপ দে সরকার
ফাঁ*সির আসামীদের দুবার মৃ*ত্যু হয়। দ্বিতীয় মৃ*ত্যুটা সহজ। যা হয় ফাঁ*সির মঞ্চে। প্রথম মৃ*ত্যুটাই কঠিন যখন সে জানতে পারছে, তার ফাঁ*সি হবে। কেমন সেই যন্ত্রণা?
এক আসামী থেকে আর এক আসামীর অনুভূতি হয় ভিন্নতর। যেমন কুখ্যাত নাবালিকা ধ*র্ষণকারী কি*লার বিল্লা ও রঙ্গাকে ফাঁ*সি মঞ্চে তোলার পর বিল্লা কাঁদছিলো হাউহাউ করে। পাশেই ফাঁ*সির দড়ি গলায় পরানোর পরেও রঙ্গা হাসছিলো আর বিল্লাকে ব্যঙ্গ করছিল, " দেখো দেখো, মর্দ হো কে ক্যায়সে রো রহা হ্যায়"।
গান্ধী হত্যাকারী নাথুরাম গডসে ফাঁ*সি মঞ্চে দাঁড়িয়ে জেলর অর্জুন দাসকে হাসিমুখে বলেছিলেন, " শ্রীমানজী, সকালেই এক কাপ গরম কফি খাওয়ানোর জন্য ধন্যবাদ"। কিন্তু নাথুরামের সহযোগী নারায়ণ আপতে তখন মাতৃবন্দনায় দৃপ্ত - " নমস্তে সদাবাত্সল্যে মাতৃভূমে...... "
দিল্লির নির্ভয়া হ*ত্যার প্রধান আসামী রাম সিং আগামী মৃ*ত্যুর জন্য যন্ত্রণাময় জীবনের চাপ নিতে না পেরে জেলের মধ্যেই গলায় দড়ি দিয়ে আ*ত্মহত্যা করেছিলো। একজন আসামী নাবালক ছিল বলে তাকে পাঠানো হয় একটি হোমে। সেখান থেকে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। অন্যতম আ*সামী মুকেশ সিং ফাঁ*সিমঞ্চে দাঁড়িয়েই চিৎকার করে ওঠে অবিকল নির্ভয়ার মত - "মুঝে বাঁচাইয়ে, মুঝে বাঁচাইয়ে "।
কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদী জ*ঙ্গী এবং দিল্লির সংসদ ভবনে স*শস্ত্র আ*ক্রমণকারী আফজল গুরু ফাঁ*সির কয়েকদিন আগে নিজের সেলে বসে গান গেয়েছিলেন - "আপনে লিয়ে জিয়ে তো কেয়া জিয়ে তু জী আয়ে দিল জমানে কে লিয়ে"। কিন্তু আর এক "কাশ্মীরি স্বাধীনতা সংগ্রামী " মকবুল বাট কাশ্মীর জেল থেকে ৩৮ মিটার সুড়ঙ্গ কেটে পালিয়েছিলেন। ধরা পড়ে আবার এলেন সেই কাশ্মীর জেলেই। ফাঁ*সির দড়িতে প্রাণ দেওয়ার পরে তার দেহ কবর দেওয়া হয়েছিলো জেলের মধ্যেই। আজও তার প্রেতের দেখা মেলে জেলের এদিক ওদিক মাঝে মধ্যেই। কারণ জেলের নানা উন্নয়ন হয়েছিলো তারই দাবিতে।
২৬ নভেম্বর ২০০৮ সালে মুম্বাই হানায় ধরা পড়েছিল পাক জ*ঙ্গী আজমল কাসব। ফাঁ*সির মাত্র কয়েক মিনিট আগে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ফাঁ*সিমঞ্চে। ওই মঞ্চেই সে নামাজ পড়ে। তারপর নিঃশব্দে গিয়ে দাঁড়ায় ফাঁ*সির দড়ির নিচে।
এক এক জনের আচরণ এক এক রকম। কিন্তু শেষ মৃ*ত্যুর জন্য অপেক্ষাই ছিল সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা এবং আফশোসও।
কেমন হয় তার আচরণ? রাতের ঘন অন্ধকারে নিশাচরদের দৌড়ঝাঁপ, রাতচরা সরীসৃপের আনাগোনা, সলিটারি সেলের দেওয়ালে টিকটিকির নিস্পলক দৃষ্টি কি তাকে ঘুমোতে দেয়? সে কি খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দেয়? অসুস্থ বোধ করে? সে কি এই ভেবে আশ্বস্ত বোধ করে, একটা অঘটন ঘটবে আর সে মুক্তি পেয়ে যাবে?
ভারতবর্ষে স্বাধীনতার পর অনেকগুলি সাড়া জাগানো ফাঁ*সির আসামীদের কেমন কেটেছিল ফাঁ*সির আগের রাত? এখনো কাটছে কারও কারও যারা রয়েছে ফাঁ*সির অপেক্ষায়।
"ফাঁ*সি" কোন কল্পকথা নয়। সম্পূর্ণ বাস্তব ঘটনা নির্ভর পনেরোটি সত্য কাহিনি । মননশীল উপন্যাসের চেয়েও আকর্ষণীয়। সঙ্গে বিরল ছবি।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি