আনন্দলহরী
পরমতত্বজ্ঞ শ্রীমদ্ভদবচ্ছঙ্করাচার্য্য বিরচিত
আদি শঙ্কর ছিলেন একজন ভারতীয় ঋষি ও দার্শনিক! ভারতীয় দর্শনের অদ্বৈত বেদান্তের শাখাটিকে তিনি সুসংহত রুপ দেন! তাঁর মতের মূল কথা হল আত্মা ও ব্রক্ষ্মের সন্মিলন! তাঁর মতে-ব্রক্ষ্ম হলো নিরগুণ! "আনন্দ লহরী "যার অর্থ হলো -আনন্দে র তরঙ্গ(প্রথম ৪১ টি শ্লোক! আর সৌন্দর্য লহরী (পরবর্তী ৫৯টিশ্লোক!) এই আনন্দ লহরী -আর সৌন্দর্য লহরীর রচনার পিছনে এক চমৎকার পৌরাণিক কাহিনী এবং আধ্যাত্মিক ইতিহাস রয়েছে! কিঙবদন্তি অনুসারে একবার আদি শঙ্করাচার্য -মহাদেব ও দেবী পারবতীর দর্শন ও পূজা করার জন্য কৈলাস পর্বতে যান! শঙ্করাচার্যের গভীর ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান শিব তাঁকে দেবী পার্বতীর মহিমা ও শ্রী বিদ্যার গোপন তত্ত্ব সম্বলিত ১০০টি শ্লোকের একটি পান্ডুলিপি উপহার দেন! শঙ্করাচার্য যখন এই অনন্য পান্ডুলিপি নিয়ে কৈলাস থেকে নীচে নেমে আসছিলেন তখন শিবের পরম বাহন নন্দী (মতান্তরে-গণেশ বা পুস্পদন্ড) তা দেখতে পান! দেবতাদের পরম গোপনীয় জ্ঞান মর্তের মাণুষ নিয়ে চলে যাচ্ছে দেখে- নন্দী রেগে যান-এবং শঙ্করাচার্যের নিকট থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন! এই টানা টানিতে-শেষ ভাগের পান্ডুলিপির শ্লোক গুলি ছিড়ে যায় এবং নন্দী তা কেড়ে নিতে সমর্থ্য হন! এর ফলে শঙ্করাচার্যের কাছে ৪১ টি শ্লোক অক্ষত অবস্থায় থাকে! এই অবস্থায় আচার্য শঙ্কর অত্যন্ত দু:খিত ও মর্মাহত হন! এই অবস্থায় দেবী পার্বতী তাঁকে দর্শন দিয়ে বলেন "তুমি দু:খ করোনা! যে ৪১ টি শ্লোক তোমার কাছে আছে -তা আনন্দ লহরী নামে পরিচিত হোক! আর বাকী ৫৯টি শ্লোক তুমি তোমার ভক্তি ও মেধা দিয়ে রচনা করে এই স্ত্রোত্রটি সম্পূর্ণ কর"!দেবীর আদেশে আদি শঙ্করাচার্য তাঁর দিব্য দূরদর্শিতা দিয়ে দেবীর নখশিখ সৌন্দর্যের বর্ননা দিয়ে বাকী ৫১ টি শ্লোক রচনা করেন! যা পরবর্তী কালে "সৌন্দর্য লহরী" নামে পরিচিতি হয়! প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী - প্রথম ৪১টি শ্লোক -মর্তের মানুষ এর তৈরি নহে - এটি ভগবান গণেশের সৃষ্টি! ভগবানের কৃপায় গুরু পরম্পরায় এটি মানুষের কল্যাণ এ প্রকাশিত হয়! আদি শঙ্করাচার্য ছিলেন - মুলতঃ অদ্বৈত বেদান্তের প্রচারক (যেখানে ঈশ্বর ও আত্মা এক)! কিন্তু আনন্দ লহরীর মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন-তীব্র ভক্তি আর তন্ত্র সাধনার (শ্রী বিদ্যার মাধ্যমে ) সেই পরম ব্রক্ষ্ম বা আনন্দের আস্বাদন পাওয়া সম্ভব! হাজার হাজার বছর ধরে সনাতন ধর্মে এই গ্রন্থের গুরুত্ব অপরিসীম! এই গ্রন্থটি পাঠকগণ অন্যান্য গ্রন্থের মতো গ্রহন করলে আমাদের শ্রম-সার্থক বলে বিবেচিত হবে!
বিনীত
প্রকাশক
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি