ভ্রমণ সমগ্র (খন্ড - ১)
বুদ্ধদেব গুহ
"ছেলেবেলায় যখন নামটা শুনতাম, তখন মনে করতাম শব্দটা হচ্ছে হাজারিবাঘ। বড় হবার পরে জানলাম, কথাটা হাজারিবাঘ নয়, হাজারিবাগ। বাগ মানে বাগিচা অর্থাৎ হাজার বাগিচা।
ছোটনাগপুর মালভূমি একটি অনবদ্য জায়গা এবং তার বিস্তারও কম নয়। পালামৌ, কোডার্মা হাজারিবাগ এই সমস্ত অঞ্চলই এক সময়ে হাজারিবাগ জেলার অন্তর্গত ছিল। এখন অবশ্য পালামৌ, কোডার্মা আলাদা জেলা হয়ে গেছে। পাহাড়, মালভূমি, গভীর সব উপত্যকা এবং বিভিন্ন আদিবাসীদের নিয়েই এই জেলার পরিচয়। আমাদের ছেলেবেলায় ট্রেনে করে রাঁচিতে আসতে মুরি স্টেশনে ট্রেন বদলাতে হত কারণ মুরি থেকে রাঁচি ছিল সিঙ্গল লাইন আর মিটার গেজ। মুরির এক পাশে ছিল পুরুলিয়া জেলা, বলরামপুর, ঝালদা ইত্যাদি জায়গা এবং লাক্ষা চাষের জন্য যে সব অঞ্চল বিখ্যাত। চল্লিশের দশক অবধি রাঁচি একটি পাহাড়ি শহর বলে গণ্য হত এবং কলকাতার বহু মানুষ সেখানে হাওয়া পরিবর্তন করতে যেতেন। স্টেশনের লাগোয়া ছিল বি. এন. আর হোটেল, এখন যার নাম সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে হোটেল। এই রেল কোম্পানিরই আরেকটি হোটেল ছিল পুরীতে। তখন পুরীতে এত হোটেল ছিল না। আধুনিক হোটেলও ছিল না। রাঁচিতেও ছিল না। এই হোটেল দুটি ছিল স্ট্যাটাস সিম্বল। খাওয়া দাওয়া এবং সার্ভিসও ছিল অতি চমৎকার। সেই সময়ে রাঁচি হোটেলের পথে পুশপুশ চলত। পুশপুশ মানে হচ্ছে বড় রিকশা। হাতে টানা রিকশা। দু'জন লোক সে রিকশা টেনে নিয়ে যেত। রিকশাতে ছিল চমৎকার গদি এবং চল্লিশের দশকেও দেখা যেত সাহেব, মেমসাহেবরা তাতে চেপে জনবিরল এবং সুন্দর, পাহাড়ি শহর রাঁচিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পরে অবশ্য রাঁচি শিল্পনগরী হয়ে উঠল। কয়লা খাদান ছাড়াও আরও অনেক শিল্প যেমন হেভি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন সেখানে স্থাপিত হল এবং গাছপালা কাটা যাওয়াতে রাঁচির আবহাওয়াও পরিবর্তিত হয়ে গেল। নইলে গ্রীষ্মকালেও রাঁচিতে পাতলা গরম জামার প্রয়োজন হত।"...
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি