বিছানায় আমি একা
অরিন্দম আচার্য
ভূমিকা :
একটি বই প্রকাশ করতে গেলে যে সবসময় ভূমিকা লেখার দরকার হয়, তা ঠিক না। তবে লিখলে খারাপ লাগে না। তেমনই ‘বিছানায় আমি একা’ উপন্যাসের জন্য ভূমিকা হিসাবে কিছু না লিখতেই পারতাম, তবে মনে হল খানিক গৌরচন্দ্রিকা দিলে ভালোই হয়। কারণ এই কাল্পনিক উপন্যাসটিকে ঠিক আদ্যন্ত কল্পনার মোরকে ঢেকে রাখা যায় না, যেহেতু সেখানে নিজের কিছুটা অভিজ্ঞতা আর কিছুটা শোনা কথার কারসাজি আছে। কাহিনীতে যে ছয় সাতটি পাত্রপাত্রী আছে, তারা সবাই কাল্পনিক। কিন্তু আমার জানা জগতে পুরুষ নারীর বিচিত্র স্বভাব ও চরিত্রকে কাল্পনিক পাত্রপাত্রীর ছায়ার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেছি। তাতে বাস্তবতা প্রকাশ পায় বলেই মনে হয়।
আজ থেকে প্রায় দুই দশক আগে সিকিমের নামচি বাজারে একজন বয়স্ক মহিলার সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল। তিনি ছিলেন সেখানকার স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষিকা। বয়সের বিস্তর পার্থক্য থাকলেও মহিলার সঙ্গে আমার আলাপ বন্ধুত্বে উন্নীত হয়েছিল খুব অল্পসময়ের মধ্যেই। তাতে অবশ্য আমার কৃতিত্ব কিছুই নেই। সেই শিক্ষিকা তাঁর মিশুকে স্বভাব দিয়ে এবং উদার মনের সাহায্যে আমাকে বেশ আপন করে নিয়েছিলেন। তাঁর বাড়ি এবং আমাদের হোটেলের অবস্থান এমন ছিল যে পদব্রজে ঘরের বাইরে বেরলে সারাদিনে একবার অন্তত তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়ে যেত। সুতরাং প্রতিদিনই অল্পবিস্তর গল্প হত। গল্পগুলোর বিষয় ছিল মূলত তাঁর দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ঘেরা।
তারপর যা হয়। ভ্রমণ শেষে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ রইল না। সময়ের নিষ্ঠুরতার কারণে ভুলেই গেছিলাম সেই মহিলার কথা। কিন্তু তাঁর কাছ থেকে শোনা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঘটনা মনে বেশ দাগ কেটেছিল। তেমনই ছিল একটি মেয়ের কথা। ভদ্রমহিলার ভাষায় সেই মেয়েটি নাকি তাঁদের বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হয়ে এসেছিলেন। অল্প বয়সে সেই মেয়েটি তাঁর ব্যক্তিজীবনের একটি কলঙ্কময় অভিজ্ঞতা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার জন্যই শহর থেকে দূরে নামচি বাজারে চলে এসেছিলেন। কাল্পনিক উপন্যাস হলেও যেকোন গল্পে অভিজ্ঞতা আর শোনা কথাকে প্রচ্ছন্ন ভিত বানাতেই হয়। তেমনই মহিলার কাছ থেকে শোনা তাঁর সহকর্মীণীর জীবনের কিছু কিছু ঘটনা ‘বিছানায় আমি একা’ উপন্যাসকে গড়ে তুলতে যথেষ্ট সাহায্য করেছে।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি