চারুপাঠ পঞ্চম বর্ষ : মায়ের হাতের রান্না

(0 পর্যালোচনা)
লিখেছেন/সম্পাদনা করেছেন
সম্পাদিত
প্রকাশক খড়ি

মূল্য
₹500.00
পরিমাণ
মোট দাম
শেয়ার করুন

চারুপাঠ পঞ্চম বর্ষ 

বিষয় : মায়ের হাতের রান্না 

(সঙ্গে ‘মায়ের রান্নার খাতা’ সম্পূর্ণ ফ্রি ) 

এই সংকলনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে দেশভাগ এবং এপার বাংলা ও ওপার বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির এক ঐতিহাসিক দলিল। বিক্রমপুর, চট্টগ্রাম বা ফরিদপুরের ‘বাঙাল’ ঘরানা যখন হাওড়া, বর্ধমান বা বাঁকুড়ার ‘ঘটি’ প্রথার সঙ্গে একই হেঁশেলে এসে মিলেছে, তখন সেখানে জন্ম নিয়েছে নানা স্বাদের ফিউশন ও আদান-প্রদান। ‘লাবড়া’ ও ‘ছ্যাঁচড়া’র সূক্ষ্ম বৈষম্য, ইলিশের কাঁচা ঝোল বনাম মাছ কড়া ভেজে ঝোলে ফেলার রীতিনীতি, কিংবা তরকারিতে মিষ্টি ও ঝালের মাত্রা—এই সামাজিক সংমিশ্রণ প্রমাণ করে যে এখানে সংকলিত নিবন্ধগুলি কেবল রেসিপির সংগ্রহ নয়, বরং বাঙালির সামাজিক ইতিহাস ও যৌথ স্মৃতির এক অমূল্য দলিল। পূর্বসূরিদের মুখে মুখে সঞ্চারিত কিংবা খাতায় টুকে রাখা প্রণালীগুলি সময়ের পরিবর্তন, শহরায়ন ও বাঙালির লোকায়ত সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করে রেখেছে।

তবে নস্টালজিয়া ও উদ্‌যাপনের পাশাপাশি সংকলনটি আমাদের এক জরুরি সামাজিক সচেতনতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। ‘মায়ের হাতের রান্না’ শব্দবন্ধটিকে ঐতিহ্যগতভাবে এক সুখী গৃহকোণ ও অলৌকিক ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হলেও, তার আড়ালে প্রায়শই ঢাকা পড়ে যায় নারীর নিরবচ্ছিন্ন, অবৈতনিক ও চরম ক্লান্তিকর শারীরিক শ্রম। সন্তানের হাসিমুখ দেখতে নিজের সোনার গহনা বন্ধক রাখা, শরীরে মারণব্যাধি ক্যানসার বহনের পরেও উনুনের পাশে দাঁড়িয়ে প্রিয় খাবার রেঁধে দেওয়া কিংবা সারাজীবন উনুনের আঁচে নিজের ইচ্ছে-আকাঙ্ক্ষাকে বিসর্জন দেওয়ার যে বাস্তবতাগুলি এখানে উঠে এসেছে, তা মূলত পারিবারিক কাঠামোর অভ্যন্তরে থাকা অদেখা এক শোষণেরই প্রতিচ্ছবি।

তাই ‘মায়ের হাতের রান্না’কে শুধুই সর্বংসহা মাতৃত্বের মহিমান্বিত ত্যাগ হিসেবে না দেখে, তার ভেতরের নিঃশব্দ শারীরিক ক্ষয় ও সামাজিক ত্যাগের দিকটিকেও উপলব্ধি করা প্রয়োজন। রন্ধনসংস্কৃতির এই চর্চা তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন আমরা এই ধারণার পেছনে থাকা অসাম্যকে অনুধাবন করতে পারব এবং রান্নাঘরকে কেবল নারীর নির্ধারিত একক দায়িত্ব না রেখে সেখানে লিঙ্গসাম্য, সম্মান ও পারস্পরিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা করব।

আর এই স্মৃতি, স্বাদ ও পারিবারিক উত্তরাধিকারের ধারাকে নিজের হাতে ধরে রাখার জন্যই ‘চারুপাঠ’ পঞ্চম বর্ষের প্রতিটি কপির সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে ‘মায়ের রান্নার খাতা’ একটি বিশেষ নোটবুক, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। মা, ঠাকুমা, দিদিমা কিংবা পরিবারের কারও মুখে শোনা প্রিয় রান্নার রেসিপি, রান্নার ছোট ছোট কৌশল অথবা হারিয়ে যেতে বসা ঘরোয়া স্বাদের স্মৃতি এই খাতায় লিখে রাখা যাবে। আজকের লেখা আগামী প্রজন্মের কাছে হয়ে উঠতে পারে পরিবারের নিজস্ব খাদ্য-ইতিহাসের দলিল।

পর্যালোচনা ও রেটিং

0 মোট 5.0 -এ
(0 পর্যালোচনা)
এই বইয়ের জন্য এখনও কোন পর্যালোচনা নেই

বই সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা (0)

প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য

অন্যান্য প্রশ্নাবলী

কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি