এক মুখর নির্জনতা
বোহুমিল হ্রাবাল
অনুবাদ : অর্ধেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
বোহুমিল হ্রাবালের একটি ছোট উপন্যাসের বাংলা অনুবাদ হল 'এক মুখর নির্জনতা'। ১৯৭৬ সালে লেখা হলেও ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বইটি প্রকাশিত হয়নি।
কারণ রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা। তবে জার্মানিতে (১৯৭৭) ও কানাডায় (১৯৮০) গোপনে প্রকাশিত হয়েছিল। উপন্যাসের পটভূমি আসলে চেকোস্লোভাকিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতা, বিশেষত ১৯৬৮-এর প্রাগ স্প্রিং-উদারীকরণ দমন হওয়ার পরের কঠোর সময়, যাকে বলা হয় "Normalisation"। এ সময়ে রাষ্ট্র ও পার্টি সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণ করত, বই সেন্সর করত, লেখকদের নজরে রাখত এবং সন্দেহজনক মনে হলে বই নষ্ট করত। এই ছোট্ট উপন্যাসের কেন্দ্রচরিত্র হান্তা। একজন একলা, নীরব মানুষ, যে প্রাগের একটি ভেজা, অন্ধকার, নোংরা ভূগর্ভস্থ ঘরে ৩৫ বছর ধরে পুরানো কাগজ আর বই পিষে গ্রন্থি বানানোর কাজ করে। তার চারপাশে মেশিনের গর্জন, ইঁদুরের দৌড়ঝাঁপ, নর্দমার গন্ধ, আর অবিরাম বইয়ের স্রোত ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রবাহিত হয়। যে-বইগুলো ধ্বংস করতে পাঠানো হয়েছে, সেগুলোর মধ্যেই হান্তা সৌন্দর্য খুঁজে পায়, নিজের ঘরে চুরি করে নিয়ে যায়। হান্তার জীবন তাই এক অদ্ভুত দ্বন্দ্বে পরিপূর্ণ, একদিকে সে বই নষ্ট করছে, অন্যদিকে সে বই রক্ষা করছে। এটাকে আত্মজৈবনিক উপন্যাস বললেও অত্যুক্তি হয়না।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি