গা ছমছমে
অলক দাশগুপ্ত
অলংকরণ - শান্তনু মৈত্র
হুড়মুড় করে আমরা ছুটে উপরের ঘরে যাই এবং আঁতকে উঠি। সিলিং থেকে ফাঁসিতে ঝুলছে পঞ্চানন্দ গোস্বামীর নিথর মৃতদেহ। আচমকা উপর থেকে গমগম কন্ঠস্বর ভেসে আসে, ‘বাবা সকল এখন আগে হত্যার দায় থেকে মুক্ত হোন। পুলিশ আসছে, গ্রামের সবাই জানে আজ আপনারা এই বাড়িতে ছিলেন।’
একটা পৈশাচিক অট্টহাসিতে পুরো বাড়িটা কাঁপতে থাকে। আমরা পাঁচজন দিগ্্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটে সিঁড়ি বেয়ে নেমে ছুটতে থাকি। নীচের ঘরে করোটির সামনে মোমবাতির শিখা তিরতির করে কাঁপছে, গোস্বামী মশাই সেখানে নেই!
সদর দরজা খুলে বাড়ির বাইরে এসে উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটতে থাকি। মনে হচ্ছে পেছন থেকে যেন একটা বিশাল কিছু তাড়া করছে, এই অস্তিত্ব পৃথিবীর কিছু নয় অন্য ভুবনের অচেনা কিছু! ঝোপঝাড় ঠেলে অন্ধকারে পথ হারিয়ে ছুটতে ছুটতে একসময় একটা ছোটো রেল স্টেশনে আসি। তখনই উলটোদিক থেকে একটা ট্রেন এসে থামে, আমরা পড়িমড়ি করে উঠে পড়ি। বার বার ভয় হয় পুলিশ পিছু নিয়েছে কিনা। ফাইন দিয়ে দূরের স্টেশনে নেমে আবার টিকিট কেটে কলকাতার গাড়ি ধরে ফিরতে ফিরতে বিকেল হয়ে গেল, ভোগান্তির একশেষ। এদিকে মনের কোণায় পুলিশের ভয়, কীভাবে কী ঘটে গেল কিছুই বোঝা যাচ্ছে না!
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি