খেলাঘরের খোলামকুচি
দেবযানী ভট্টাচার্য
প্রগাঢ় শান্ততা জড়ানো কিছু সবুজ খাল-ডোবা বৃক্ষ-গুল্ম, পেলব আর্দ্রতা চোঁয়ানো কিছু নরম ঘর-গেরস্তি পলিপথ আর, সদাচঞ্চল একঝাঁক খোকাখুকু পাখপাখালি ঘেরা গেঁয়ো মফস্সলে বেড়ে ওঠা এই কলমচির, স্নেহময় অতিথি-পরিজন সান্নিধ্যে।
বস্তুত, খরখরে নিরস সব প্ৰবন্ধ-নিবন্ধ-লিখিয়ে বলেই কলমচির সামান্য পরিচিতি থাকলেও, এমন ঐশ্বর্যমণ্ডিত বেড়ে ওঠার সৌভাগ্যে-কল্যাণে, সে অন্যতর কিছু লেখাপত্রও লিখেছে নিজস্ব খেরোয়, সহজ আনন্দে। প্রকৃতপ্রস্তাবে, ঐসব খিলখিল লেখালেখিই এক এবং একমাত্র সঙ্গী ও সাক্ষী তার এককালের সজল-কোমল-সরল যাপনের। খেরোবন্দী সেই দীঘল গল্পগাছার বেশখানিকটুকুই ধরা রইল এই দু-মলাটে।
ঠিক কী আছে এতে?
কত কতদিন হেঁটে চলা― বড়, বড় চেনা অলিগলিপথ―
আধুনিক রূপটান সুবাদে, সদ্য খোলস ছাড়া সরীসৃপ সেজে শুয়ে আছে কাঁখ-কোঁক বেঁকিয়ে।
বৃষ্টি এলে আজকাল বুকে তার বাড়ন্ত বসত-ঠাঁই, ঝরা পাতারাও তাঁকে ক্রমাগত চলছে এড়িয়ে।
দোল-দুর্গোৎসব, পয়লা-পঁচিশে বৈশাখ, খাগ-শেলেট-ফার্স্টবুক, এক আঁজলা ভূত-ভবিষ্যৎ, আপন-পরের স্বার্থহীন মিঠেবাসাবাসি― সব ঘষাকাঁচের ওধারের বায়োস্কোপ।
বর্তমান চলছে পুরোনো-ছোঁয়াচ এড়িয়ে।
খবরে প্রকাশ, পথের করোটি ঠাসা স্মৃতির জঞ্জালে পাশের পুকুর ভরাট হবে।
নিটোল জলের বুকে বিছানো শ্যাওলা হয়ে রয়ে যাওয়া মায়া, কোথায় যাবে?
এই মায়াটুকুই সাধ্যমত যত্নে রাখা রইল, বারো অধ্যায়ের ঘরদোর আঁকড়ে-জুড়ে রাখা এক বইয়ের উঠোনে, আপনাদের জন্য।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি