লাল ঘুড়ি
শোভন সুন্দর দাস
প্রচ্ছদ : চিন্ময় মুখোপাধ্যায়
আমরা যারা তথাকথিত জেন-এক্স, তারা একজীবনে অনেক কিছু দেখেছে। ১৪০০ বঙ্গাব্দের সূচনা থেকে ২০০০ সাধারণাব্দের সূত্রপাত, পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ থেকে ভয়ংকর সুনামি, করোনা অতিমারির কারণে লকডাউন থেকে ইন্টারনেট ও মুঠোফোনের দ্রুত আপগ্রেডেশন। তবে এ কথা আশা করি সকলেই স্বীকার করবে যে, গত শতকের আশির দশক থেকে শুরু করে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি বেড়ে ওঠা প্রজন্মের নিত্যসঙ্গী ছিল গল্প এবং কমিকসের বই। ক্যেবল টিভির রমরমা তখনও শুরু হয়নি সর্বত্র। শিশু-কিশোরদের মনোরঞ্জনের জন্য তাই খেলাধূলার পরের সব চেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়টা ছিল বই পড়া।
দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হলো, আজকের জেন-জি'রা অতটা বইমুখী নয়। এই কালখণ্ডে দাঁড়িয়ে শিশু-কিশোরদের গল্পের বই পড়ার অভ্যাসকে ব্যতিক্রমী হিসেবেই ধরা হয়। তবু যদি কোনও বাবা-মা তাঁদের ছেলে বা মেয়েটিকে গল্পের বই কিনে দেন, কিম্বা নিজেরাই পড়ে শোনান, সেক্ষেত্রে হয়তো অবস্থার পরিবর্তন ঘটতেও পারে।
চাইল্ড সাইকোলজি অ্যান্ড প্যাডাগজি বলছে— ছোটদের পড়তে ভালো লাগে গোয়েন্দা গল্প বা থ্রিলার। আমরা অনেকেই একটা ভুল করি এই ভেবে যে, ছোটদের হাতে বেশি হিংস্রতা সংবলিত বইপত্র তুলে দেওয়া উচিত নয়। ফলে শিশু সাহিত্যের নামে যা লেখা হয়, তা অনেক সময়েই উদ্দিষ্ট পাঠককূলকে সন্তুষ্ট করতে পারে না। এইখানে বন্ধুবর শোভন একটি তারিফযোগ্য কাজ করেছেন। তিনি ছোটদেরকে শিশু বা কচি হিসেবে ট্রিট করেননি। তাঁর লেখায় তাই আরোপিত শিশুসুলভতা নেই। যা আছে, তা নিখাদ উত্তেজনা, রোমাঞ্চ এবং অনাবিল হাস্যরস।
এই বইয়ে সংকলিত আঠেরোটি গল্পের সাহায্যে লেখক চেষ্টা করেছেন নিজের কিশোরবেলায় ফিরে যেতে। সেই সময়ে আমরা যা পড়ে আনন্দ পেতাম, তেমন করে লেখা হয়েছে গল্পগুলো। এবার তিনি কতটা সফল হয়েছেন, অথবা আদৌ সফল হয়েছেন কি না, সেই বিচারের ভার পাঠকের হাতে। পাঠক যদি শিশু বা কিশোর হয়, তবে তো কথাই নেই। আবার তাদের বাবা-মায়েরা পড়লেও নিজেদের জীবনের সেই সোনালি অধ্যায়ে ফিরে যাবার মতো রসদ পাবেন বলেই মনে করি। আসন্ন বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা রইল সবার জন্য।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি