মাথুর কথা
পুলিনবিহারি দত্ত
মথুরার প্রাচীন ইতিহাস বৈদিক যুগ থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত বহু বাঁক অতিক্রম করেছে। প্রাগৈতিহাসিক অনার্যদের বাসভূমি এই অঞ্চলটি রামায়ণ যুগে শত্রুঘ্ন কর্তৃক বিজিত হয় এবং পরবর্তীকালে যদুবংশীয় শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান হিসেবে পৌরাণিক খ্যাতি লাভকরে। খ্রিস্টপূর্ব সময়কাল থেকে মথুরা জৈন তীর্থঙ্কর এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান কেন্দ্র ছিল, যার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আজও কঙ্কালী টিলার মতো স্থানে পাওয়া যায়। মৌর্য সম্রাট অশোক এবং শক-কুশান সম্রাট কণিষ্ক ও হবিষ্কের পৃষ্ঠপোষকতায় এখানে অসংখ্য স্তূপ ও বিহার নির্মিত হয়েছিল। গুপ্ত যুগে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের পুনরুত্থান ঘটলেও, মথুরায় জৈন ও বৌদ্ধ প্রভাব খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত প্রবল ছিল, যার প্রমাণ চৈনিক পরিব্রাজকদের বিবরণে মেলে। এরপর গজনীর মামুদ (১০১৭খ্রিস্টাব্দ) থেকে আওরঙ্গজেব (১৬৭০ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত বিভিন্ন মুসলিম শাসকদের হাতে মথুরার মন্দির ও দেবমূর্তিগুলি বারবার ধ্বংস ও লুণ্ঠিত হয়। মুঘল-পাঠান সংঘর্ষের সুযোগে, চৈতন্যদেব-প্রেরিত গোস্বামীরা ষোড়শ শতাব্দীতে বৃন্দাবন-মথুরায় রাধাকৃষ্ণ উপাসনা এবং নতুন মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন বর্তমান যুগে এই নগরী শিল্প-বাণিজ্যের কেন্দ্র এবং বৈষ্ণব তীর্থক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি