নারীর কোনও দেশ নেই
তসলিমা নাসরিন
"আমি বিশ্বাস করি নারীর কোনও দেশ নেই।
দেশ মানে যদি নিরাপত্তা, দেশ মানে যদি স্বাধীনতা,
তবে নারীর নিশ্চয়ই কোনও দেশ নেই।
পৃথিবীর কোথাও নারী স্বাধীন নয়,
পৃথিবীর কোথাও নারীর নিরাপত্তা নেই।"
প্রথমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বৈরীভাব সৃষ্টি হতে পারে এই আশঙ্কা দেখিয়ে এবং পরে বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত করা হয়েছে এই অপরাধের ভিত্তিতে তাঁর আত্মজীবনীর তৃতীয় খণ্ড 'দ্বিখণ্ডিত' পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এক বছর ন মাস ছাব্বিশ দিন নিষিদ্ধ থাকার পর হাইকোর্টের রায়ে মুক্তি পেয়েছে বই। দুই বাংলায় এই বইয়ের (পশ্চিমবঙ্গে 'দ্বিখণ্ডিত', বাংলাদেশে 'ক') কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মোট একুশ কোটি টাকার মামলা রুজু হয়েছে তাঁর সতীর্থ লেখক দ্বারা।
তসলিমা নাসরিন প্রচুর পুরস্কার এবং সম্মান অর্জন করেছেন, এর মধ্যে আছে ইওরোপীয় সংসদ থেকে মুক্তচিন্তার জন্য শাখারভ পুরস্কার, সহিষ্ণুতা এবং শান্তি প্রচারের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার, ফরাসি সরকারের মানবাধিকার পুরস্কার, ধর্মীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইএর জন্য ফ্রান্সের এডিট দ্য নান্ত পুরস্কার, সুইডেনের লেখক সংস্থা থেকে কুর্ট টুখোলস্কি পুরস্কার, জার্মানীর মানববাদী সংস্থার আরউইন ফিশার পুরস্কার, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিডম ফ্রম রিলিজন ফাউন্ডেশন থেকে ফ্রি থট হিরোইন পুরস্কার, বেলজিয়ামের গেন্ট ইউনিভার্সিটি এবং ফ্রান্সের দ্য আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব প্যারিস থেকে সাম্মানিক ডক্টরেট। তিনি আমেরিকার হিউম্যানিস্ট অ্যাকাডেমির হিউম্যানিস্ট লরিয়েট। ভারতে দুবার পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার নির্বাচিত কলাম এবং আমার মেয়েবেলার জন্য। ইংরেজি ফরাসি ইতালীয় স্পেনীয়, জর্মান সহ পৃথিবীর তিরিশটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে তসলিমার বই। মানববাদ, মানবাধিকার, নারী-স্বাধীনতা ও নাস্তিকতা বিষয়ে তিনি বিশ্বের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে তো বটেই, বিভিন্ন বিখ্যাত মঞ্চেও বক্তৃতা দিয়েছেন। মত প্রকাশের অধিকারের পক্ষে তিনি সারা বিশ্বে একটি আন্দোলনের নাম।
বর্তমানে ভারতে বসবাসের অনুমতি পেলেও তিনি তাঁর নিজস্ব ভাষার দেশ বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাসিত।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি