প্রগাঢ় মানুষী কৃষ্ণভাবিনী দাস
শ্রেয়সী চক্রবর্তী
সম্পাদনা : দময়ন্তী দাশগুপ্ত
একে কালা নেটিভ। তায় বঙ্গমহিলা। তায় আবার লেখে...
সে সব লেখা আবার সাধনা, ভারতী, প্রবাসীর মত প্রথম সারির পত্রিকায় ছাপা হয়।
আবার বইও বেরোয়।
এত জ্বলন কি সহ্য হয়?
তিনি তাঁর শ্বশুর কলকাতা হাইকোর্টের ব্যবহারজীবী শ্রীনাথ দাসের অতিরক্ষণশীল এবং প্রতিক্রিয়াশীল আচরণের বিরোধিতা করে বরের সঙ্গে ইংল্যান্ড যান ১৮৮২ সালে৷ এবং ফিরে আসেন ১৮৯০ তে। এর মধ্যে তাঁর জীবনের ভয়াবহ ট্রাজেডি ঘটে গিয়েছিল। একমাত্র জীবিত সন্তান, কন্যা তিলোত্তমাকে বাধ্য হয়েছিলেন শ্বশুরের কাছে রেখে যেতে, সেই মেয়ের বিয়ে হয় কুপাত্রে, মাত্র নয় বছর বয়সে, আর তার জীবন নানাভাবে ধ্বংস হয়ে যায় স্বাভাবিক ভাবেই। পরে স্বামী ও কন্যাকে হারান বাইশ দিন আগে পরে। এই দুটি ঘটনার মধ্যে সেতু ছিলনা কেবল ছিল অনন্ত স্রোতস্বিনী। তারপর করেছেন কেবল কাজ আর কাজ। নানারকম কাজ, মেয়েদের জন্য। ধনী দরিদ্র উঁচু নিচু লালবাতির মেয়েরা সাদা আলো সমাজের মেয়েরা.... সকলে পেয়েছে তাঁর কল্যাণকর্মের স্পর্শ। আর সে সকল কথা বলতে গিয়ে লিখতে গিয়ে তাঁকে ক্ষতবিক্ষত হতে হয়েছে বারবার।
কোনও স্কুলে না গিয়েও কেবল বাড়িতে স্বামী দেবেন্দ্রনাথ দাসের সহযোগিতায় ন-বছরের বিবাহিত কৃষ্ণভাবিনী বাড়িতে বসে পড়াশোনার যে লড়াইটা শুরু করেছিলেন তা আজ আমাদের জায়গা থেকে কল্পনা করাও সম্ভব না। আজ নারীবাদ এবং নারীপ্রগতির যুগে সে লড়াই কোন মাত্রার তা হয়ত নারীবাদী বা সমাজবিদদের পক্ষে অনুমান করাও শক্ত।
সেই লড়াই বৃথা যায়নি। প্রবল পুরুষতান্ত্রিক দাপট এবং চাপের সমাজেও প্রথম সারির পত্রিকাতে একের পর এক লেখা বেরোতে থাকে কৃষ্ণভাবিনীর।
স্বভাবতই সে চাপ নেওয়া মুশকিল ছিল সমাজের। কটাক্ষবাণে বিদ্ধ হতে থাকেন তিনি। পত্র-পত্রিকায় ধেয়ে আসে একের পর এক সমালোচনা।
কৃষ্ণভাবীনি এক অবাক মানুষ, অনন্যা নারী। তিনি অনায়াসে তৈরি করেছেন বেড়া ভাঙার ধারাপাত৷ অথচ আজ পর্যন্ত কোন প্রাচ্য নারীবাদী তত্ত্ব তাঁকে ঘিরে গড়ে ওঠেনি।
তাঁর এই লড়াইকে প্রণতি জানিয়ে, তাঁর জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে সারস্বত চর্চার নিবেদন বিস্মৃত বঙ্গ নারী সিরিজের প্রথম বই শ্রেয়সী চক্রবর্তীর কলমে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে-
সারস্বত চর্চার নিবেদন সেই সকল বিদুষীদের নিয়ে যাঁদের রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত নিরন্তর পথচলা আজ আমাদের যাত্রাকে মসৃণ করছে। আমরা জানব তাঁদের কথা। পড়ব তাঁদের কথা।