শেষ চিঠি
অভিজিৎ চৌধুরী
'আবার আমি পুনরায় বিপদের পথে রওনা হইতেছি।
এটুকু লিখে সুভাষ বার্লিনের আকাশের দিকে তাকালেন। একই আকাশ, শুধু তফাত বার্লিন স্বাধীন আকাশের অধিকারী আর ভারতবর্ষের আকাশ আজও পরাধীন।
হিটলার রাশিয়া আক্রমণ করবেনই। ওঁকে বোঝানোর সাধ্য কারোর নেই। কিছু সৈন্য বার্লিনে পেয়েছেন। ভারতীয় বন্দি সেনাবাহিনী যাঁরা একদা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পক্ষে লড়েছিল।
মনে পড়ছে এলগিন রোডের বাড়িটা। সেই টানা বারান্দা। বাবার উপহার দেওয়া সোনার হাতঘড়িটা কাবুলে খোয়াতে হয়েছে।
অনিতার জন্ম হয়েছে। সে এখনও শিশুকন্যা। এমিলিয়েকে বার্লিনে রেখে চলে যেতে হবে। বাববার বলেছিলেন সুভাষ, আমার একমাত্র প্রেম, একমাত্র স্বপ্ন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা, সেখানে তুমি, আমাদের শিশুকন্যা গৌণ। আমার সঙ্গে থাকলে নতুন নতুন বিপদ। তোমার মনে হচ্ছে এবার বুঝি আমি ঘরের পথে রওনা হলাম। ভারতবর্ষে গিয়ে আমি কি তোমাকে ভুলে যাব, ভুলে যাব অনিতাকে!
না এমিলিয়ে তা নয়। আবার যে খুব মনে রাখতে পারব এমন কথাও দিতে পারছি না। নিশ্চয় বলব না, ওসব আমার অতীত। কিন্তু হয়তো তোমাকে আমার স্মৃতিকে অতীত ভাবতে হবে। না হলে তোমার আর অনিতার এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটা দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাবে।
পরের লাইনে সুভাষ লিখলেন, হয়তো পথের শেষ আর দেখিব না। লিখে লাইনটা কাটলেন। আবার লিখলেন। সচরাচর এরকম তিনি করেন না। এ-কি তাঁর শেষ চিঠি! এরকমটা ভাববেন কেন সুভাষচন্দ্র বোস।...'
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি