শরৎচন্দ্র
গোপালচন্দ্র রায়
অভূতপূর্ব সাহিত্যখ্যাতির সঙ্গে সঙ্গে শরৎচন্দ্রের জীবন ঘিরে তৈরি হয়েছিল নানা জনশ্রুতি, প্রবাদ ও অপপ্রচার। একথা ঠিক, শরৎচন্দ্রের জীবন বিপুল বৈচিত্র্যে আকীর্ণ। তাঁর প্রথম জীবনের অনেকটা সময় কেটেছে বেপরোয়া, উচ্ছৃঙ্খল, ছন্নছাড়া ও ভবঘুরে রূপে। ফলে তাঁর জীবন বেশ রহস্যময়। এই রহস্যের আবরণ সরিয়ে তাঁর জীবন-ইতিহাসের সঠিক উপাদান সংগ্রহ করা রীতিমতো কঠিন। শরৎচন্দ্রের জীবনী লিখতে বসে অনেকেই জনশ্রুতি ও কল্পিত কাহিনীকে সত্য বলে ধরে নিয়েছেন। এমনকী তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আত্মীয়রা বহু ভুল তথ্য দিয়েছেন। ফলে শরৎচন্দ্রের একটি প্রামাণ্য ও তথ্যনিষ্ঠ জীবনীগ্রন্থের অভাব থেকেই গেছিল। এই গ্রন্থের লেখক দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে, যথার্থ গবেষকের অনুসন্ধানী দৃষ্টি ৬০ ভাবনায় রচনা করেছেন শরৎচন্দ্রের এই অনন্য জীবনী। নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, লোকশ্রুতি ও রহস্যের আবরণ সরিয়ে এই জীবনীগ্রন্থে উদ্ভাসিত হয়ে রহস্যের আবরণ সরিয়ে এই জীবনীগ্রন্থে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছেন সেই জীবনদরদী মহাপ্রাণ সাহিত্যস্রষ্টা। বাংলা জীবনী-সাহিত্যের ধারায় এই বই অমূল্য সংযোজন।
লেখক পরিচিতি :
গোপালচন্দ্র রায়ের জন্ম ৩০ চৈত্র ১৩২২(১২ এপ্রিল ১৯১৬)। পিতা তারিণীচরণ রায়, মা নগেন্দ্রবালা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এ। কর্মজীবনে 'ভারতবর্ষ' মাসিক পত্রিকার সহকারী সম্পাদক: নৈহাটির ঋষি বঙ্কিম গ্রন্থাগার ও সংগ্রহশালার অধ্যক্ষ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন সুদীর্ঘকাল। শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভবনে রবীন্দ্র-গবেষক রূপেও কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন যুক্ত থেকেছেন সার্বিক গ্রামোন্নয়নের কাজে কালে মহাত্মা গাঁধী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র প্রমুখ দেশনেতার, বাংলা, ভারত এবং বিদেশের বহু বিখ্যাত সাহিত্যিকের সংস্পর্শে এসেছেন। মূলত শরৎচন্দ্রের জীবনীকার ও শরৎচর্চায় নিমগ্ন হলেও বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও জীবনানন্দচর্চাতে সমান স্বচ্ছন্দ। পঞ্চাশটির অধিক গ্রন্থের রচয়িতা শ্রীরায় বহু পুরস্কারে সম্মানিত।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি