শ্যাওলা ভেসে যায়
দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
মানুষ কি মাটির টানে ফেরে, নাকি মানুষের টানে? এই প্রশ্নকেই তাড়িয়ে নিয়ে বেড়িয়েছে একদল ঘরছাড়া মানুষ।
কৃষিজীবী মানুষ কখনো দেশ ছাড়তে চায় না, সে তার মাটিকে ভালোবাসে। কিন্তু দেশভাগ সেই শিকড় ছিঁড়ে পূর্ব বাংলার এক বিরাট জনপদকে ভাসিয়ে দিয়েছিল স্রোতের শ্যাওলার মতো।
দণ্ডকারণ্য থেকে মানা ক্যাম্প, আর সেখান থেকে মরিচঝাঁপির রক্তঝরা ইতিহাস-শিকড়হীন এই মানুষগুলো বারবার চেষ্টা করেছে পাথুরে মাটিতেও ভালোবাসার ঘর বাঁধতে।
সভ্যতার মূলধারা থেকে দূরে, নিভৃত অরণ্যগ্রামে এক শ্যাওলা-পুরুষ যখন তার কাঙ্ক্ষিত নারীকে খুঁজে পেতে শুরু করে, ঠিক তখনই আবার বেজে ওঠে ফেলে আসা মাটির মোহিনী ডাক।
দীর্ঘ পনেরো বছরের মাঠপর্যায় এবং দুর্লভসাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে লেখা এই আখ্যান কেবল রাজনীতির দস্তাবেজ নয়। এটি আসলে একইসঙ্গে দুটি প্রেমের গল্প-একদিকে মাটির সঙ্গে মাটির মানুষের চিরকালীন প্রেম ও বিচ্ছেদ, অন্যদিকে মানুষ ও মানুষীর রসঘন মিলন ও বিরহ।
দাঙ্গা আর ইতিহাসের চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে ও যে ভালোবাসা বেঁচে থাকে, 'শ্যাওলা ভেসে যায়' সেই অবিনশ্বর অনুভূতিরই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি