সুশীল সিংহ কবিতাসমগ্র
সুশীল সিংহ
সংকলন ও কথামুখ : সব্যসাচী হাজরা
প্রচ্ছদ : সমীরণ ঘোষ
ষাটের বিশিষ্ট কবি সুশীল সিংহ প্রণীত কবিতাসমগ্র।
"আমরা কেউ কি কাউকে কিছু দিতে পারি? হ্যাঁ অবশ্যই দিতে পারি, একজনের প্রাপ্য সম্মানটুকু। এই সম্মান, শিল্পের একজন রস-ভোক্তা হয়ে শিল্পের মর্যাদাটুকু দিয়ে। আমরা সেটুকু কি পেরেছি? পারলেও কতটুকু? এইসব ভাবতে ভাবতেই সেই মানুষটির নাম মনে পড়লো। সুশীল সিংহ। কতিপয় পাঠক তাঁর লেখার সাথে পরিচিত, অধিকাংশই নন। সেটাই তো স্বাভাবিক। কে খুঁজবেন? কী খুঁজবেন? সব কি উল্টে-পাল্টে গ্যালো? দূষণ! সে তো ভেতরে। ঢাকা পড়ছে যা কিছু সৎ। স্তর স্তর, কত ঢুকবো। তল পাই না। রঞ্জিতদা'র কাছে এই কবির নাম আমি প্রথম শুনি। শুনি ওঁর ঔদার্যের কথা। 'দাঙ্গা হাসি', 'জঙ্গি অদ্ভুত বালক'-এই কথা বারবার উচ্চারিত হোতো রঞ্জিত সিংহ'র মুখে। তিনিই সুশীল সিংহ। কবি সুশীল সিংহ-কে নিয়ে আমার আর রঞ্জিতদা'র সেই ঘরোয়া আড্ডা লিখিত আছে আমার গদ্যগ্রন্থ 'রঞ্জিতকথায়'। এই কবির দুটি কবিতার বই 'আমার বাবা ও জন্মদিনের কামিজ', 'ভূঁয়ের নাম ছাতা পাথর', তিনটি উপন্যাস 'এ জন্মের ইতিহাস', 'বাবা বাগেশ্বরের ঘোড়া' ও 'আত্মীয়স্বজন', গল্পের দুটি সংকলন 'পাড়ি' ও 'জনতা জংশন'। ওঁর সম্পাদিত পত্রিকার নাম ছিলো 'পা'। সেই পত্রিকাই বা কোথায়? মেঘ সরে না। হারিয়ে গেলেন? হারিয়ে গেলেন! 'মানুষ'-এর ভিড় দেখতে দেখতেই কত মানুষ আড়ালে যায়। তবুও 'পা' অন্ধকারে আলো জ্বালে। পথ দ্যাখায়। সত্যের দিকে ছুটে যেতে যেতে সম্পর্কের তৃষ্ণা বাড়ে। আবিষ্কৃত হয় নিজের সত্য। জীবনবোধের প্রখর দিকগুলো প্রতিফলিত হয় শব্দে। উপলব্ধির আকাশে স্পেসবোনা পুরদু পুর। গানবোনা গ্যালারি। দাগ দেওয়া জন্মদিন। এই দাগ কাটা হয়, ফ্যালা হয়, রাখা হয়। সম্পর্ক ভিজে ওঠে, শুকিয়ে যায়। মুখগুলো দ্যাখার চেষ্টা করি, ছোঁয়ারও। যেন বিস্তৃতির অস্থির পথে নিজের আলো টুকরো করি নিজের ছায়ায় ব'সে। সেই তো জীবনপথিক যে নিজেকে উন্মোচিত করে সময় ও সীমার অসীম সংলাপে। বৃষ্টির অপেক্ষা থাকে, ভেসে যাওয়াও... আসুন পাথরে মাথা রেখে জীবনসবুজ কল্পনা করি। স্থায়িত্ব কী? সে কি জোর ক'রে ধ'রে রাখা যায়। এই যেমন সুশীল সিংহ, সব্যসাচীর হাতে কত দশকের পার্থক্যেও উঠে এলো। সব্যসাচী এখানে নামমাত্র। এরকমই প্রচার/পুরস্কারের সম্পূর্ণ বাইরে থাকা মানুষ তাঁর নিজস্ব আলোর হাত ধরেই ফিরে আসেন, আর বহু বহু ওয়াটের কৃত্রিম আলো ফেলে জোর ক'রে চেপে ধরা মানুষটা? পাঠক ভাবুন। সময়সংযুক্তি ও তার অতিক্রম কবিতাকে ফিরে পড়ার কারণ। নিজের দ্যাখা পর্দায় নিজের হাতটুকু রাখি। কতবছর আগের লেখা কাব্যগুণেই সেই দূরত্ব টপকে গ্যাছে। ব্যক্তিগত আকাশে এক অশেষ দৃষ্টি। সুশীল সিংহ'র 'কবিতাসমগ্র' প্রকাশ করার তাগিদ তাই ভেতর থেকেই... আসলেই, কবি দেখতে পান। অসম্ভব এই দ্যাখা, দেখতে পান। বাস্তবতায় জন্ম হতে থাকে যে কল্পনা তা তীব্র হয়ে, সময়ের কালো গর্তের ভেকধারী নট ও নটীদের মুখে যে থাপ্পড়টি পড়ে সেখানে আমারও গাল পাতা আছে। 'প্রতিটি জরায়ুতে জন্মশাসন'-এর পর এই কবিতা। 'সভ্যতা'-র নামে যে রক্ত-মাংসের উৎসবের কাছে প্রতিদিন আমাদের আত্মসমর্পণ, সেখানে গর্জে ওঠার প্রয়োজন আছে, অবশ্যই শিল্পিত সেই পরিসরে। স্বাধীনতার চোখগুলো উপড়ে নিয়েছে যে চরম পরাধীনতা তা আমাদের কাছে লজ্জার নয়! স্বাধীনতা শুধুই কি স্বপ্ন! নক্ষত্রের সাথে কোন কথা বলেছি আমরা? কোন কথা বলেছি প্রথম পরিধেয়'র সামনে? প্রথম গ্রাসের কাছে রেখেছি কোন মারণাস্ত্র? প্রথম আশ্রয়ের কাছে রেখেছি কি শুধুই বারুদ? অন্তর্বাসটুকুরও অধিকার নেই! কবিই জানতে চেয়েছিলেন- 'কার অবশেষ নিয়ে ফিরছো তুমি? ও কি সত্যিই আমি? তুমি নিশ্চিত?' শিকারকে নিয়ে শিকারির উল্লাস আজ সর্বত্র। 'এযে বুক-ফাটা দুখে গুমরিছে বুকে গভীর মরমবেদনা।' জনতা জংশনে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছি রজনীগন্ধা আর আধপোড়া ধূপের দিকে। হে শববাহক, শববাহী গাড়িতে নিয়ে যাচ্ছো কাকে? আমার অবশিষ্ট লজ্জাটুকু?"
—সব্যসাচী হাজরা
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি