অবিনশ্বর
অনিন্দিতা মণ্ডল
ষোড়শ মহাজনপদগুলিতে তখন বেদ-ব্রাহ্মণ-রাজার দোর্দণ্ড প্রতাপ যেন কিছু ক্ষীণ। বৈশ্যকুল সমাজ-নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবতীর্ণ আর শূদ্রসমাজ অমানিশায় কন্টকাকীর্ণ পথে নিরুপায় নামহীন পথিকরূপে গড়ে তোলে বানিজ্যপথ, শ্রীময়ী নগরী, শ্রীমন্ত জনপদ। দুর্বলের উপর প্রবলের অত্যাচারে, ব্যাভিচারে, অসাম্যে, উৎকোচলোভী শাসকের অপশাসনে জর্জরিত মানুষ। এমনই এক কালবেলায় শাক্যবংশীয়, অপ্রতিম এক পুরুষের কাছে যুদ্ধযাত্রা অপেক্ষা কাঙ্খিত বলে প্রতীয়মান হল জীবনের আদি থেকে অন্ত, অন্ত থেকে আদিতে চলাচলের দুঃখময় অভিযাত্রা পথের বোধিলাভ। বুদ্ধত্ব-প্রাপ্তি শেষে ত্রিশরণ নিতে আসা অগণিত মানুষের মধ্যে তিনি জ্বালালেন তাঁদের আত্মদীপ, শরণাগত সকলে অনুভবে জানলেন এই সত্য, যে তাঁদের তাপিত চিত্ত শান্তি পাবে কেবলমাত্র আত্মশরণেই। তথাগত হলেন মগধরাজ বিম্বিসারের রাজগুরু। প্রায় সমসময়ে শ্রাবস্তীর বণিককুলে অন্য এক পুরুষ তাঁর বাণিজ্য-লব্ধ অমেয়সম্পদকে দানে, বৌদ্ধবিহার নির্মাণে, ভিক্ষুসংঘের প্রতিপালনে নিঃশেষে উজাড় করে দিয়ে তারই মধ্যে সন্ধান করে ফিরলেন জীবনের চরিতার্থতা... অন্য অমিতবীর্য পুরুষটি জন্মাবধি রত রইল নিয়তিতাড়িত অন্বেষণে... তার পুরুষকার তার অদেখা জননীর ব্যথিত মঞ্জীরধ্বণির মতো মুগ্ধ, আবিষ্ট অথচ বেদনাদীর্ণ করল তার পরিপার্শ্বকে। এই তিন অসাধারণ পুরুষকে বেষ্টন করে রইল এক মহাকাব্যিক পরিদৃশ্য। সকলের অন্তর্নিহিত শ্রমণ-সত্ত্বাটি থাকল অবিনশ্বররূপে উজাগর...
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি