অতীন্দ্রিয় সাহিত্যে শরদিন্দু
ড. রাত্রি ঘোষাল
সাধারণ পাঠকের কাছে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচয়- ব্যোমকেশ স্রষ্টা এবং ঐতিহাসিক কাহিনিকার। কিন্তু অলৌকিক সাহিত্যের সাম্রাজ্যে তিনি যে মুকুটহীন রাজা- এ কথা অনেকের অজানা। সেই অজানার ভাষ্য 'অতীন্দ্রিয় সাহিত্যে শরদিন্দু'।
এই প্রথমবার শরদিন্দুর অলৌকিক রচনাবলি এমনকি অলৌকিক প্রসঙ্গযুক্ত সাহিত্য বহুল আলোচিত হয়েছে এবং অলৌকিকতাকে বিভিন্ন পর্যায়ভুক্ত করা হয়েছে। জাতিস্মর থেকে জ্যোতিষশাস্ত্র, প্ল্যানচেট থেকে পূর্বজন্ম, গ্রিক নেমেসিস থেকে গথিক হরর, প্রাণীজ আত্মা থেকে বস্তুজ অশুভত্ব কিভাবে অনুঘটকীয় উপাদান হয়ে অতীন্দ্রিয় সাহিত্যরস জমিয়ে তুলেছে, তা পর্যায়ক্রমে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। শরদিন্দুর লেখার প্রধান তিন চালিকাশক্তির ভূমিকা উদ্ঘাটন বইটির মূল আকর্ষণ- নিউরোসাইকোলজি ও অতীন্দ্রিয় জগতের সংযোগ, বরদা চরিত্রের নির্মাণ, বঙ্গসাহিত্যে অলৌকিক সাহিত্যকে সাবালকত্ব দান। এছাড়া অতীন্দ্রিয় সাহিত্যের পথিকৃৎ শরদিন্দুর সার্থকতা-অভিনবত্ব- শিল্পকৌশল- প্রাচ্যপাশ্চাত্য পূর্বসূরি-সমকালীন-পরবর্তী সাহিত্যিকদের সঙ্গে সম্পর্কের রূপরেখা নবীনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
লেখক পরিচিতি :
ড. রাত্রি ঘোষাল জন্ম বর্ধমান শহরে বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে (১৭.০৯.১৯৭৮)। কলকাতা ইউনিভার্সিটির প্রথম পিএইচডি ডিগ্রিধারী, মহামহোপাধ্যায় ড. সতীশচন্দ্র বিদ্যাভূষণ আচার্য মহাশয়ের দৌহিত্র স্বনামধন্য বৈজ্ঞানিক-অধ্যাপক ড. সুধাংশুকুমার ঘোষালের কন্যা। পড়াশোনা প্রথমে সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল, বর্ধমান রাজ কলেজ ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। পরে রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি লাভ। বাংলা, ইংরাজি ও শিক্ষাবিজ্ঞানে ট্রিপল এম.এ. এবং ইউজিসি নেট উত্তীর্ণ। প্রথমে হাজিপুর বেগুনিয়া এস. ডি হাইস্কুলে এবং বর্তমানে রসুলপুর ভুবনমোহন হাইস্কুলে ২০১৩ থেকে অ্যাসিস্টেন্ট টিচার পদে কর্মরত। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত ও রবীন্দ্রসঙ্গীতে সঙ্গীত বিশারদ; নৃত্য ও সৌন্দর্যবিদ্যায় রয়েছে ডিপ্লোমা। লেখালেখির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় পেয়েছেন প্রথম স্থান। বর্তমানে সপরিবারে বর্ধমান শহরে বাসরত।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি