বাংলা রঙ্গালয়ের পালাবদল (১৭৫৩-১৯৪৮)
দীপঙ্কর সেন
'বাংলা রঙ্গালয়ের পালাবদল' বইটিতে এমন এক সময়ের কথা লেখা হয়েছে, যে সময়টাকে বাংলা নাটকের সূচনা লগ্ন বলা যায়।
যাত্রাপালা, কবিগান, তরজা, খেউর ইত্যাদি ছিল সেই সময়ের সাধারণ দর্শকদের মনোরঞ্জনকারী উপাদান। এর পর বাংলায় ইংরেজরা এসে কয়েকটি নাট্যমঞ্চ প্রস্তুত করে ও ইংরেজি নাটক অভিনীত হতে শুরু করে। বাংলার তদানীন্তন অভিজাতশ্রেণীর কিছু মানুষ সেই নাটক দেখতে এলেও সাধারণ দর্শকদের কাছে তা আদৌ গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠলো না। তারা চাইলো বাংলায় লেখা নাটক। শুরু হল বঙ্গনাট্যের কাল। একে একে গিরিশচন্দ্র ঘোষ, শিশিরকুমার ভাদুড়ী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ নাট্যকারদের লেখা নাটক অভিনীত হতে শুরু করলো। দিকপাল অভিনেতারা মঞ্চে অভিনয় করে দর্শকদের মাতিয়ে তুললেন। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে বাংলা নাটকের ইতিহাসের বিবর্তন হতে লাগলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্যাসিবাদের নির্মম বাস্তব পরিস্থিতির শিকার হলো বাংলার সাধারণ মানুষ, নাট্যকারদের কলম তার প্রতিবাদে গর্জে উঠলো, গণনাট্য আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লো সারা বাংলায়। এই বইতে সেই ১৯৫ বছরের (১৭৫৩ - ১৯৪৮) বাংলা নাটকের পালাবদলের ইতিহাস বিবৃত হয়েছে।