দর্পণে রবীন্দ্র কবিতা
ডঃ অশোককুমার মিশ্র
[কিন্তু শিখিয়ে দেওয়া কায়দায় দু-চারটি শব্দ জোড়া দিতেই যখন পয়ারের কাঠামো গড়ে উঠল-তখন পদ্য রচনা নিয়ে বিস্ময় ও মোহ অনেকটাই ঘুচে গেল শিশুকবির। এ সময় "কোনো-একটি কর্মচারীর কৃপায় একখানি নীল কাগজের খাতা জোগাড় করিলাম। তাহাতে স্বহস্তে পেনসিল দিয়া কতকগুলা অসমান লাইন কাটিয়া বড়ো বড়ো কাঁচা অক্ষরে পদ্য লিখিতে শুরু করিয়া দিলাম।" কাব্য-রচনার প্রথম পর্বে তাঁর উৎসাহদাতা দাদা তাঁকে শুধু উৎসাহই দেননি 'আমার এই-সকল রচনায় গর্ব অনুভব করিয়া শ্রোতা-সংগ্রহের উৎসাহে সংসারকে একেবারে অতিষ্ঠ করিয়া তুলিলেন।'
শিশু রবীন্দ্রনাথের নর্মাল স্কুলের শিক্ষক সাতকড়ি দত্তও কবির কাব্যরচনার উৎসাহদাতাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি নিজে কবিতার দুটি ছত্র রচনা করে শিশু কবিকে তার পরের দুটি ছত্র লিখতে বলতেন। 'জীবনস্মৃতি'তে রবীন্দ্রনাথ সাততড়ি দত্তের সঙ্গে তাঁর কবিতার পাদপূরণের খেলার একটি দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। শিক্ষক যে দুটি ছত্র তাঁকে দেন তা এ রকম,-
'রবি করে জ্বালাতন আছিল সবাই
বরষা ভরসা দিল আর ভয় নাই।'
রবীন্দ্রনাথ পাদপূরণ করিতে গিয়ে যে দুটি ছত্র রচনা করেন তা এরকম,-
"মীনগণ হীন' হয়ে ছিল সরোবরে।]
এখন তাহারা সুখে জলক্রীড়া করে।"
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি