ধানমন্ডি ৩২ পোড়ামাটির সংলাপ
এফ এম শাহীন
ইতিহাস তো শুধু ধুলো পড়া পুঁথির জীর্ণ পাতা নয়, সে যে বেঁচে থাকে মানুষের স্মৃতিতে, কালের সাক্ষী পোড়া ইটে আর ক্ষতবিক্ষত দেওয়ালে, সে স্পন্দিত হয় রক্তমাখা প্রতিটি সোনালি ও বেদনাবিধুর সময়ে। বর্বরতার আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া যায় বহুতল অট্টালিকা, কিন্তু একটি জাতির অবিনশ্বর চেতনা আর তার আত্মাকে, কোনোদিন মুছে ফেলার সাধ্য কি কারোর আছে?
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী অস্থির সময়ে তরুণ গবেষক অনির্বাণ প্রবেশ করে ধানমণ্ডি ৩২-এর পোড়া ধ্বংসস্তূপে। তার কাছে এটি শুধু একটি বাড়ি নয়; একটি জাতির জন্ম, স্বপ্ন, সংগ্রাম ও স্মৃতির প্রতীক। হঠাৎ এক অদৃশ্য কণ্ঠ তাকে প্রশ্ন করে "তুমি কি ইতিহাস জানতে এসেছ, নাকি বিচার করতে এসেছ?” সেই প্রশ্ন থেকেই শুরু হয় অনির্বাণের অলৌকিক অভিযাত্রা।
সে কথা বলে ভগ্ন দেয়ালের সঙ্গে, পোড়া বইয়ের সঙ্গে, ইতিহাসের স্মৃতির সঙ্গে। তার সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠেন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, নেতাজি, ফিদেল কাস্ত্রো, ইয়াসের আরাফত, বার্ট্রান্ড রাসেল, জয়নুল আবেদিন এবং বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামের প্রতিধ্বনি। সে প্রত্যক্ষ করে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বপ্ন, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রেম, মৃত্যু ও ক্ষমতার নির্মম বাস্তবতা।
'ধানমন্ডি ৩২ পোড়াবাড়ির সংলাপ' কোনো রাজনৈতিক প্রচারপত্র নয়; এটি ইতিহাস, স্মৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক গভীর সাহিত্যিক অনুসন্ধান। কারণ মানুষ ও ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ইতিহাসের স্মৃতি একদিন ফিরে এসে প্রশ্ন করে "তোমরা আমাদের কাছ থেকে কী শিখলে?"
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি