দশ রহস্য : দেবদত্তা বন্দ্যোপাধ্যায়

(0 পর্যালোচনা)
লিখেছেন/সম্পাদনা করেছেন
দেবদত্তা বন্দোপাধ্যায়

মূল্য
₹300.00
পরিমাণ
মোট দাম
শেয়ার করুন

দশ রহস্য 

(আলোক ও সাহানা সিরিজ - দ্বিতীয় খন্ড) 

দেবদত্তা বন্দ্যোপাধ্যায় 

প্রচ্ছদ - সন্তু কর্মকার 

হঠাৎ পিয়ম বলল, “এটা কী!” 

আলোক ঘুরে দেখে ওর হাতে একটা ব্রাউন রঙের খাম, খামের ভেতর কী আছে বোঝা যাচ্ছে না। আলোক খামটা হাতে নিয়ে আলোর দিকে ধরে, একটা সাইডে কালচে খয়েরী রক্তের দাগ শুকিয়ে রয়েছে। খামের ওপর কাঁপা হাতে মিশাইয়ের নাম লেখা ইংরাজিতে। তবে পোস্ট অফিসের কোনও ছাপ নেই। ঠিকানা এই বাড়ির। পিয়ম আর আলোক খামটা নেড়েচেড়ে দেখে। 

আলোক বলে, “এটা মিশাইকে ডেকে দেওয়া উচিৎ। আগে ও খুলুক তারপর না হয় আমরা দেখতে চাইব। তবে এই খামটাই হয়তো সব রহস্যর চাবি কাঠি।” 

 মিশাই রান্নাঘরের পাশের স্টোর রুমে শোয়। তখনও জেগে ছিল। পিয়মের ডাকে স্টাডিতে এসে দাঁড়াতেই আলোক খামটা এগিয়ে দেয়। মিশাইকে বলে, “এটা তোমার নামে এসেছে। লেটার বক্স খালি করার সময় দেখোনি?”

ও একটু ঘাবড়ে যায়। বলে, “আমি তো কিছু জানি না। আমার নামে কখনও কিছু আসেনি। যা থাকে চিঠির বাক্সে সব ডাক্তারবাবুর জিনিস। তাই টেবিলে রেখে দিই। আজ বিকেলেই এগুলো এনেছি। রোজ বিকেলেই একবার বাক্সটা চেক করি।”

আলোক আগেই দেখেছিল গেটের পাশে বড় গাছগুলোর সামনে দেওয়ালের গায়ে চিঠির বাক্স। ওই গাছগুলোর পাশে বড় গাব গাছটার আড়ালেই আবদুল দাঁড়িয়েছিল। তার মানে ও ঢুকতে না পেরে এটা নাম লিখে লেটার বক্সে ফেলে দেয়। তখনি হয়তো রক্ত লেগে গেছিল। ও এটা মিশাইকে দিতে চাইছিল কোনও ভাবে। অঙ্কের অনেকটা মিলে যাওয়ায় একটা হাল্কা হাসি ফুটে উঠেছিল আলোকের মুখে।

মিশাই বোকা বোকা মুখে খামটা নিয়ে এক ঝলক দেখেই আবার পিয়মকে দিয়ে দেয়। ওর ভাষায় কী একটা বলে ওঠে, যার বাংলা পরে শুনেছিলাম, “রক্ত মাখা খাম মৃত্যুর বার্তা বয়ে আনে।”

পিয়ম ক্রিও ভাষায় ওকে একটা ধমক দেয়। তারপর খামটা নিজেই খোলে, ভেতরে ডায়েরির কিছু ছেড়া পাতা, আর আলোকদের অবাক করে তাতে ঝরঝরে বাংলায় লেখা কিছু দিনপঞ্জি।

পাতাগুলো ছেড়া, তাই অনেক খুঁজেও ওরা লেখকের নাম পেল না। মিশাই বাংলা বলতে জানলেও পড়তে পারে না বলেছিল। আবদুল বাংলা জানত বুঝেছিল ওরা। তবে কি লিখতেও পারতো? 

আলোক ছেড়া পাতাগুলো হাতে নেয়। ভাল করে দেখে বলে, “এ তো কোনও বঙ্গ সন্তানের হাতের লেখা। এত সুন্দর পরিষ্কার ঝরঝরে বাংলা এরা কি লিখতে পারে? আর ডায়েরিটা ২০০১ সালের। মোট নয়টা পাতা। ঠিক রোজনামচা নয়, তবে কতগুলো ঘটনা। তবে এর আগে পরেও আছে কিছু হয়তো। দু’পাতা পড়েই আলোক বুঝতে পেরেছিল এ কোনও সৈনিকের লেখা। হঠাৎ মিশাইয়ের দিকে তাকিয়ে ওরা দেখল ওর মুখ ভয়ে ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। ও হঠাৎ ভীষণ ভয় পেয়েছে। ওর ঠোঁট দুটো থরথর করে কাঁপছে। 

“কী হয়েছে মিশাই? তুমি এমন করছ কেন?” পিয়ম বলে। 

“এগুলো... এগুলো... শয়তানের দলিল। এগুলোই আবদুলের মৃত্যুর কারণ। পুড়িয়ে ফেলুন এ সব।” ওকে দেখে হিস্টিরিয়া রুগী মনে হচ্ছিল। ও যে ভীষণ ভয় পেয়েছে বোঝা যাচ্ছিল।

এমন দশটা রহস্য গল্প ও উপন্যাস নিয়ে আসছে আলোক ও সাহানা। 

পর্যালোচনা ও রেটিং

0 মোট 5.0 -এ
(0 পর্যালোচনা)
এই বইয়ের জন্য এখনও কোন পর্যালোচনা নেই

সংশ্লিষ্ট বই

বই সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা (0)

প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য

অন্যান্য প্রশ্নাবলী

কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি