যোগী ও সুন্দরী
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধায়
প্রচ্ছদ : কৃষ্ণেন্দু মণ্ডল
অলঙ্করণ : পার্থ মৈত্র
প্রথম প্রকাশ : জানুয়ারি ২০২২
দ্বিতীয় সংস্করণ : জানুয়ারি ২০২৪
শ্রবণের মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। ভোরের আলো তখনও ফোটেনি। কাশীর অলি-গলির ভিতর দিয়ে কেদারঘাটের দিকে এগিয়ে চলেছে এক অনিন্দ্যসুন্দর সদ্য যুবা ঋষি। শুনশান পথঘাট। যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানো ষাঁড়, কুকুর, সন্ন্যাসী, অতি প্রাচীন বিধবা বুড়ি- কারও দেখা নেই। একমাত্র সেই নবীন যুবক একা দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে ঘাটের দিকে। ভোরের আলো ফোটার আগে স্নান তার সারা বছরের অভ্যাস। মাথার উপর টিপটিপ বৃষ্টি হয়ে চলেছে। এমন সময় যুবক এসে দাঁড়াল কেদারঘাটে। তারপর পা টিপে টিপে নামল জলে। ঘাটে তখন বড় একটা কেউ নেই। এক দিকে দু'জন সন্ন্যাসী আর কিছুটা দূরে দু'জন স্ত্রীলোক। এক জন প্রৌঢ়া, অন্য জন নবীনা যুবতী। আবছা আলোয় তাদের মুখ ঠিক দেখা যাচ্ছে না, তবে অনুমান করা যায় যুবতী অসামান্যা সুন্দরী। প্রৌঢ়া স্নান সেরে উপরে উঠে গেছে। যুবক গাত্রমার্জনায় ব্যস্ত। সহসা ঘটে গেল এক চরম বিপত্তি। পা পিছলে যুবতী সোজা ভরা গঙ্গায়। এক মুহূর্তেই বুবা পাড়ে উঠে ঝাঁপ দিল যুবতীর উদ্দেশে। লক্ষ্যভ্রষ্ট হল না সে। ধরে ফেলল যুবতীকে, যুবতীও শেষ অবলম্বনের মতো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল তাকে। কিন্তু প্রবল স্রোতে ভেসে গেল দু'জনেই। বলশালী যুবক প্রবল ক্ষমতায় পাড়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু না, স্রোত ততই তাদেরকে টেনে নিয়ে যেতে লাগল। দশাশ্বমেধও পেরিয়ে গেল। দু'জনেই ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। শরীরের জোর আর নেই। সব আশা যখন প্রায় শেষ; তখনই এক ব্রাহ্মমুহূর্তে তারা গিয়ে ঠেকল মণিকর্ণিকার শ্মশানঘরের দেওয়ালে। যুবক শেষ শক্তি প্রয়োগ করে টেনে তুলল প্রায় অচেতন প্রায় বিবস্থা যুবতীকে। তার পর দুই বাহুতে তুলে এগিয়ে চলল চাতালের দিকে। বৃষ্টি তখন প্রায় থেমে এসেছে। ভোরের আলোও ফুটে উঠেছে। এতক্ষণে যুবতীর মুখের উপর দৃষ্টি পড়ল যুবকের। মুহূর্তে তার বুকের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ বয়ে গেল। এ কে!
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি