কহেন কবি মুকুন্দদাস

(0 পর্যালোচনা)
লিখেছেন/সম্পাদনা করেছেন
সাম্য দত্ত

মূল্য
₹390.00
পরিমাণ
মোট দাম
শেয়ার করুন

কহেন কবি মুকুন্দদাস 

সাম্য দত্ত 

তৎক্ষণাৎ জিভ কাটিল পাঁচুগোপাল। “ছুডো বুনডার কিরে কত্তা, আর কুন‌ও প্যাঁচ নাই। যজ্ঞা এককালে বোষ্টম হ‌ইছিল, অহন কালী-কেষ্ট দুই-ই ভজে। আর তাইতেই বাবুগো গোঁসা। তেনারা ‘পিতা পিতা’ ক‌ইরা চোখের জল ফেলেন, আর যজ্ঞায় ‘মা মা’ ক‌ইরা চ্যাল্লায়। তাবৎ প্যাচাল ওই সাকার আর নিরাকারে, ন‌ইলে আর কুন‌ও কাউর নাই।”

-“হুঁ, বুঝলাম।” বলিলাম বটে, কিন্তু এই বোঝা ল‌ইয়া আমি কী করিব, তাহা সহসা স্থির করিতে পারিলাম না। কেবল মনে হ‌ইল, এতদিনে যেন কিঞ্চিৎ আলোর সন্ধান পাইয়াছি। যে চক্রব্যূহ এযাবৎ দুর্ভেদ্য বলিয়া বোধ হ‌ইতেছিল, আজ স্বয়ং নিয়তি যেন পাঁচুগোপালের বেশ ধরিয়া তাহাতে একখানি ছিদ্রের সন্ধান করিয়া দিয়াছেন। “তা বাপু পাঁচুগোপাল, তুমি কোন দলে? সাকার না নিরাকার?”

-“আইজ্ঞা কত্তা, মুই বেকার।” 

-“অ্যাঁ! কী বললি?”

-“মোর কুন‌ও ইষ্ট নাই কত্তা।” ব্যাখ্যা করিল পাঁচু, “প্যাটের ক্ষুধা মোর যম, হেই যমের হাত থিকা যিনি মোরে রক্ষা করবেন— তিনিই ইষ্ট, তিনিই গুরু। হ, এককালে আমি হেই দলের লবণ খাইছি, হাচচ‌ইও কথা। ক‌ইলোম, হেই কৃতজ্ঞতা কোলে ক‌ইরা ব‌ইসা থাকলে তো আর মোর চলব না।”

-“আরেকবার ভেবে জবাব দে, পাঁচু। যজ্ঞা তোর ছোটবেলার স্যাঙাত আমাদের কথামত কাজ করলে হয়ত একদিন তোর জন্য‌ই সেই যজ্ঞার কোমরে দড়ি পরবে। অবশ্য তার জন্য যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ তুই পাবি।” হাতের ইশারায় বিশদ করিলাম আমার বক্তব্য, “কিন্তু তোর বিবেক আবার কামড়াতে আসবে না তো? দেখিস পাঁচু, এ-কাজে একবার নেমে পড়লে কিন্তু আর পিছিয়ে আসার উপায় নেই। লেগে থাকলে পুরষ্কার যেমন পাবি, মাঝপথে পিঠটান দিলে তিরষ্কারটাও কিন্তু স‌ইতে হবে তোকেই।” 

   পাঁচুগোপাল এতক্ষণ হাঁটু মুড়িয়া বসিয়া ছিল, তাহার যুক্ত করদ্বয় ঝুলিয়া ছিল বক্ষের সম্মুখে। এইবার সেই এক‌ই ভঙ্গিতে সে উঠিয়া দাঁড়াইল, কহিল “যজ্ঞা ক‌ইছিল, হে জীবদ্দশায় মোর থোতমা আর দেখব না। তা আইজ রাতে যদি মোর বাপেরে ফের কাশে ধরে, কাশতে কাশতে হে জাইগা থাকে রাতভর, আর কাশের দমকে দলা দলা রক্ত বাহির হয় তার মুখ থিকা, তহন কি যজ্ঞা আইসা তারে নিরাময় করব? মিছা কথা কমু না কত্তা— মুই যজ্ঞারে তহন‌ও একসের ভালা পাইতাম, অহন‌‌ও পাই। তা হে যজ্ঞা মোর হোগায়‌ই লাতাক, আর গালে চুমাই খাক। তার নাহান দোস্ত মুই এ-জীবনে আর দ্বিতীয়টি পাই নাই— এ-কথা মুই ঘাটে উইঠাও মানব। ক‌ইলোম, কর্মফল খণ্ডাইবার আমি কেডা? যজ্ঞার কর্মফল যদি তারে উচ্ছন্নে নিয়া যায়, তো মুই তারে বাধা দিই কেমনে কন দেহি?”

পর্যালোচনা ও রেটিং

0 মোট 5.0 -এ
(0 পর্যালোচনা)
এই বইয়ের জন্য এখনও কোন পর্যালোচনা নেই

সংশ্লিষ্ট বই

বই সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা (0)

প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য

অন্যান্য প্রশ্নাবলী

কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি