কামেশ্বরী কথন : শাক্ত তন্ত্রে কামতত্ত্ব
অর্ঘ্য দীপ্ত কর
প্রজনন ও জীবন ধারণের ক্ষেত্রে কাম অপরিহার্য, তবু কাম সংক্রান্ত ভীতি ধর্মীয় সংস্কৃতি নির্বিশেষে প্রায় সর্বত্র দেখা যায়। কামকে এক কথায় যাকে বলা যায় একটি necessary evil। দার্শনিক দৃষ্টিতেও কামকে বরাবরই জ্ঞানলাভের পথে অন্তরায় বলেই ধরা হয়। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ গৌতম বুদ্ধ দ্বারা প্রচারিত চতুরার্যসত্যে অনত্যম ‘দুঃখ সমুদয়’ বা ‘দুঃখের কারণ’-এর ভাবনা, যেখানে বলা হয়েছে যে যাবতীয় দুঃখের কারণ তৃষ্ণা বা আসক্তি। এই তৃষ্ণা ইচ্ছারই নামান্তর। হিন্দু ধর্মে ষড়রিপুর অন্যতম হিসেবে কামের ভূমিকা নিয়ে আমরা ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি। তবুও দেখা যায় যে তন্ত্রনির্ভর সাধনধারায় কামের শক্তিকে নানান ভাবে মহিমান্বিত করা হয়েছে। তন্ত্রমতে দেবীরা প্রায়শ শৃঙ্গাররসে পরিপূর্ণা। তাঁদের মূর্তিভাবনা, সাধনপদ্ধতি সমস্ত কিছুতেই কামসম্বন্ধীয় অনুষঙ্গ জড়িয়ে রয়েছে। এই অনুষঙ্গটি দেবীদের নামের মধ্যেই দেখা যায়, যথা কামরূপা, কামাখ্যা, কামেশ্বরী কামিনী ইত্যাদি। আমরা গ্রন্থের পর্ববিশেষে দেখব যে পুরাণে কামদেবকে ঘিরে নানান সমস্যার উল্লেখ থাকলেও তন্ত্রপূজিতা দেবীরা খুব অনায়াসে তাঁকে আপন করে নিয়েছেন। তাই স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন ওঠে, এর কারণ কী? স্মার্তভাবনার মতাদর্শমূলক কাঠামো থেকে তন্ত্রের দৃষ্টি কোথায় আলাদা? বর্তমান আলোচনার পরবর্তী পর্বে আমরা এর উত্তর সন্ধান করব।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি