মানুষের অধিকার
প্রফুল্ল রায়
"লোকটা এবার আঙুল বাড়িয়ে পেছন দিকের সেই মিছিলটা দেখিয়ে দেয়। ফিল্মি গানের সেই সুরটা বাজাতে বাজাতে ওরা এদিকেই আসছে। নাটোয়ার বলে, 'ওরা কারা?'
তার এত বড় অজ্ঞতায় প্রথমটা হাঁ হয়ে যায় লোকটা। তারপর যেন করুণা করেই বলে, 'আরে ভাই, ভারতমাতা রথ আসছে। তা-ই দেখতে লোকজন ভিড় করছে।' সে আরও জানায়, কাল-পরশু দু'দিন ধরে তিন চারটে লোক টাঙ্গায় করে ন্যাশনাল হাইওয়েতে টহল দিতে দিতে মাইকে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, আজ সকালে ভারতমাতা রথ এই রাস্তা দিয়ে যাবে। তাকে 'স্বাগত' জানাতে সবাই যেন শুদ্ধ মনে দু'ধারে দাঁড়িয়ে থাকে। এটা তাদের পবিত্র কর্তব্য।
ইদানীং নানা ধরনের রথযাত্রার কথা কানে আসছে নাটোয়ারের। রামচন্দ্রজিকা রথ, প্রগতি রথ, সম্মার্গ রথ, সুচৈতন্য রথ, সম্ভাবনা রথ, ইত্যাদি। বড় বড় নেতারা দামি মোটর বা ভ্যান গাড়ির রথ বানিয়ে সেগুলোতে চড়ে দেশে নাকি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অন্য সব রথের কথা শুনলেও ভারতমাতা রথের কথা এই প্রথম শুনল নাটোয়ার। আসলে তাদের তেতরিয়া গাঁ-টা হাইওয়ে থেকে অনেক দূরে, মাঠের মাঝখানে। পায়ে হাঁটা ছাড়া সেখানে যাওয়া অসম্ভব। ভারতমাতা রথের পাবলিসিটিওলারা টাঙ্গা থেকে নেমে কষ্ট করে আর অতদূরে যায়নি। গেলে জানতে পারত নাটোয়ার।
মাঝবয়সী লোকটা আর দাঁড়ায় না, নাটোয়ারের চাইতে ভারতমাতা রথের আকর্ষণ তার কাছে অনেক, অনেক বেশি। মিছিলটা যেদিক থেকে আসছে, ভীষণ ব্যস্তভাবে সে সেদিকে এগিয়ে যায়। রখটা যেন অদৃশ্য বঁড়শি তার নাকে আটকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
নাটোয়ার আবার হাঁটতে শুরু করে। ভারতমাতা রথ নিয়ে এই মুহূর্তে তার কোনো আগ্রহ নেই।..."
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি