রবি থেকে রবীন্দ্রনাথ তৃতীয় খণ্ড
ত্রিদিব ব্রহ্ম
"রবীন্দ্রনাথের ষট্রিংশ থেকে পঞ্চত্রিংশ (সাধারণ গণনায়) অর্থাৎ এই দশ বছরের প্রাসঙ্গিক জীবনী ও সাহিত্য রচনা নিয়ে 'রবি থেকে রবীন্দ্রনাথ' (তৃতীয় খণ্ড, ১৮৮৭-১৮৯৬) প্রকাশিত হল।
রবি থেকে রবীন্দ্রনাথ নামক গ্রন্থের মূলসূর ও অর্থাৎ অভিমুখের প্রসঙ্গ প্রথম খণ্ড ভূমিকায় উদ্ঘাটনের প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রথম খণ্ডের ভূমিকাটি পরবর্তী সকল খন্ডের সাধারণ ভূমিকারূপে দায়িত্ব পালন করবে।
রবীন্দ্রনাথের জীবনের যে সময়কাল এই গ্রন্থের আলোচ্য বিষয় তা যুগপৎ গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। এই সময়কালেই একইসাথে জমিদারির তদারকি, উন্মুক্ত প্রকৃতি ও পদ্মার সান্নিধ্য। জমিদারি অঞ্চলের প্রজা ও সাধারণ মানুষের সুখদুঃখের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রাকে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে উপলব্ধি করার সুযোগ লাভ করেছেন। সৃষ্টি হল-'ছিন্নপত্রাবলী', অসামান্য সব ছোটগল্প। 'সাধনা' পত্রিকায় 'পঞ্চভূত'-এর মতো এক অভিনব প্রবন্ধ সংকলন এবং ক্ষুরধার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রবন্ধসমূহ। রচনা করেছেন গীতিনাট্য 'মায়ার খেলা' ও কাব্যনাট্য 'চিত্রাঙ্গদা', 'মালিনী', 'রাজা ও রাণী'-র মতো বৈচিত্র্যময় নাট্যসম্ভার। রচনা করেছেন কাব্যগ্রন্থ 'মানসী', 'সোনারতরী', 'চিত্রা' ও 'চৈতালি'। চিত্রা কাব্যগ্রন্থের কবিতায় উন্মোচিত হল রবীন্দ্রনাথের 'জীবনদেবতা'।
রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয়বারের ইংল্যান্ড সফর এই সময়কালেরই অন্তর্গত। এই ভ্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে রচনা করলেন, 'য়ুরোপ যাত্রীর ডায়ারি'।
এই খণ্ডের আলোচ্য সময় রবীন্দ্রনাথের জীবনের এক অনন্য পর্ব- সৃষ্টিশীলতার উন্মেষ, চিন্তার পরিণতি, সমাজ-সম্বন্ধে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, মানুষ ও প্রকৃতির অন্তর্লীন সম্পর্কের অনুসন্ধান- সার্বিকভাবে রবীন্দ্রনাথ এক নবযাত্রার প্রান্তে অবস্থান করছেন।
বিস্ময়ের বিষয় বহুক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয় যে বিষয়গুলি আজ বিজ্ঞানের নানা শাখার আলোকে ব্যাখ্যা করার অনুধাবন করার চেষ্টা করা হচ্ছে, রবীন্দ্রনাথ সেগুলির অন্তর্নিহিত সত্য অনেক পূর্বেই অনুভব করেছিলেন স্বজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও গভীর মানববোধের দ্বারা। রবীন্দ্রনাথ বিজ্ঞানী ছিলেন না কিন্তু তাঁর দৃষ্টিভঙ্গী ছিল অনুসন্ধানী। তাই রবীন্দ্রনাথ এক চলমান সংলাপ।
এই গ্রন্থের পাঠক আজকের জিজ্ঞাসু বিশ্বের এক জীবন্ত সহযাত্রীরূপে যদি রবীন্দ্রনাথকে নতুন করে আবিষ্কার করন তবেই এই প্রয়াস সার্থক হবে।
পরম শ্রদ্ধেয় পণ্ডিত অজয় ভট্টাচার্য তাঁর মূল্যবান প্রজ্ঞার আলোকে এই গ্রন্থটিকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁকে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। বিশিষ্ট রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ শ্রীমতী রীনা বসু তাঁর সুচিন্তিত মূল্যায়ন আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। শ্রীমতী সুস্মিতা ব্রহ্ম প্রুফ সংশোধনের মতো কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করে আমাকে ধন্য করেছেন। শ্রীমান সার্বত্রিক ব্রহ্ম রবীন্দ্রনাথের সামাজিক চিন্তা সম্পর্কে আলোকপাত করে গ্রন্থটিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ সাহায্যপ্রাপ্তির আশা রাখছি।
সকল শুভানুধ্যায়ী ও সুধীপাঠকগণকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি।"
ত্রিদিব ব্রহ্ম
বৈষ্ণবঘাটা পাটুলি,
কলকাতা- ৭০০০৯৪
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি