শেষ রূপকথা

(0 পর্যালোচনা)
লিখেছেন/সম্পাদনা করেছেন
স্বস্তিনাথ শাস্ত্রী

মূল্য
₹300.00
সংস্করণ
পরিমাণ
মোট দাম
শেয়ার করুন

শেষ রূপকথা 

স্বস্তিনাথ শাস্ত্রী 

আমি সিনেমা বানানো শুরু করার আগেই উত্তমের ছবি দেখেছিলাম। আমি শুনেছিলাম একজন নতুন হিরো এসেছে। তখন যাঁরা হিরো ছিলেন যেমন, সায়গল, প্রমথেশ বড়ুয়া, দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, এঁরা কেউই হলিউডের হিরোদের সমতুল্য ছিলেন না।

আমি উত্তমের তিনটে ছবি পরপর দেখেছিলাম, তিনটেরই পরিচালক ছিলেন নির্মল দে। যিনি অত্যন্ত দক্ষ পরিচালক। উত্তমকে দেখে আমার মনে হয়েছিল, খুবই সাবলীল অভিনেতা এবং একটা ব্যক্তিত্ব আছে। তাঁর অভিনয়ে বিন্দুমাত্র নাটকীয়তা নেই। মনে হয়েছিল, এঁর ভবিষ্যত আছে।

এর অনেক পরে আমার উত্তমের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়। তখন সে প্রায় কিংবদন্তি হয়ে উঠেছে। বলতে গেলে উত্তম তখনই হলিউডের সংজ্ঞা অনুযায়ী একজন স্টার!

উত্তমের সঙ্গে আমার কাজ করার অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত মধুর। শুরুতেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে উত্তম হৃদয় দিয়ে অভিনয় করে (ইন্সটিঙ্কটিভ অ্যাক্টর)। 

আমি তাঁদের সঙ্গেও কাজ করেছি, যাঁরা বুদ্ধি দিয়ে অভিনয় করেন (সেরিব্রাল অ্যাক্টর)। এঁরা একটা চরিত্রকে নিয়ে কাটাচেরা করে চরিত্রের গভীরে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এর কোনও নিশ্চয়তা নেই যে, বুদ্ধিমান অভিনেতারা সবসময় হৃদয় দিয়ে অভিনয় করা অভিনেতাদের থেকে ভালো কাজ করবেন। আমার একটুও মনে পড়ছে না যে, উত্তম একবারও আমার সঙ্গে (নায়ক ছবির) চরিত্রটা নিয়ে কোনও বিশ্লেষণমূলক আলোচনা করেছে। তা সত্ত্বেও শ্যুটিংয়ের সময় প্রতি মুহূর্তে তাঁর আস্তিন থেকে ছোটো ছোটো ডিটেইলিং, সূক্ষ্ম কাজ করে আমাকে চমকে দিয়েছে।

প্রায় দশ বছর পরে আমি 'নায়ক' ছবিটি ফের দেখতে বসেছিলাম। মন দিয়ে দেখে আমি আমার কাজের অনেক খুঁত খুঁজে পেয়েছি, কিন্তু উত্তমের কাজের প্রায় কোনও ত্রুটিই আমার নজরে পড়েনি।

-সত্যজিৎ রায় 

----------

এ যেন রূপকথার গল্প। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে, পোর্ট কমিশসনার্সের বাঁধা মাইনের চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল অনিশ্চয়তার মহাসাগরে। ফিল্ম লাইনে নায়ক হবেন! কিন্তু সে কি চাট্টিখানি কথা? প্রত্যাখ্যানের পর প্রত্যাখ্যান। স্টুডিওতে ঢুকলে টিটকারি, অপমান। যদিও বা সুযোগ মিলল, ছবি ফ্লপ! একটা বা দুটো নয়, পরপর সাতটা ছবি ফ্লপ। সবাই বলাবলি করতে শুরু করল, এ অপয়া। স্টুডিওতে তার নাম হয়ে গেল 'ফ্লপ মাস্টার জেনারেল'। কেরিয়ার প্রায় ডুবতে বসেছিল আর কি। সেই উত্তাল সমুদ্রে ভাসানো ভেলাকে কিন্তু ছেলেটি পার করে দিল। ফ্লপ মাস্টার জেনারেল থেকে হয়ে উঠল প্রযোজক আর পরিচালকদের ভরসার অভিনেতা। সে থাকলে ছবি চলবেই। নায়ক থেকে মহানায়ক হল। পাশাপাশি তাকে নিয়ে জল্পনা, রটনারও শেষ নেই। সংসার ছেড়ে 'পরনারী'-র সঙ্গে জীবন কাটানো। একাধিক নারীসঙ্গ নিয়ে মুখরোচক কথাবার্তা ঘুরতে শুরু করল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে আম বাঙালির ঘরে ঘরে। তাছাড়া অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন। আবার পাশাপাশি তার দানধ্যান, মানুষের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ার স্বভাব এসব তাকে করে তুলল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির 'মসিহা'। সব মিলিয়ে অত্যন্ত বর্ণময় তাঁর জীবন। ঠিক রূপকথার মতোই। তিনি বাঙালির মহানায়ক উত্তমকুমার। উত্তমকুমারকে নিয়ে এখনও মানুষের মনে কৌতূহল। কারণ তিনি ছিলেন আম জনতার নাগালের বাইরে। তাই উত্তমকুমারের জীবন নিয়ে নানা জল্পনা, নানা রটনা। তবে এ বইতে শুধুই উত্তমকুমারকে নিয়ে গালগল্প নেই। উত্তমকুমার নামক 'ফেনোমেনন' কীভাবে সৃষ্টি হল তা খোঁজার চেষ্টা বইটিতে হয়েছে।

পর্যালোচনা ও রেটিং

0 মোট 5.0 -এ
(0 পর্যালোচনা)
এই বইয়ের জন্য এখনও কোন পর্যালোচনা নেই

সংশ্লিষ্ট বই

বই সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা (0)

প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য

অন্যান্য প্রশ্নাবলী

কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি