শিক্ষা ভাবনা
ড. ক্ষুদিরাম দাস
আজীবন শিক্ষাব্রতী ক্ষুদিরাম দাসের মনোগত ব্রাসনা ছিলো সমাজে দুর্বলতম মানুষও যেন প্রাথমিক শিক্ষার অধিকার পায়। তাই তিনি গ্রামে গ্রামে, পাড়ায় পাড়ায় প্রাথমিক স্কুল স্থাপনের উপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি মনে করতেন শিক্ষার প্রসারের জন্য যত সংখ্যক স্কুল ও কলেজ থাকা উচিত তা আমাদের রাজ্যে নেই। সেই কারণেই তিনি তৎকালীন রাজ্য সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করবার জন্য সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করেছিলেন। শুধু যে ক্লাসরুমে শিক্ষকতা করেছেন বা টেবিলে চেয়ারে বসে গবেষণা করেছেন তা নয়, এজন্য তিনি ময়দানে নেমেছিলেন। শিক্ষক নিয়োগ বিষয়ে পক্ষপাতিত্ব রোধ করার জন্য কলেজ সার্ভিস কমিশনের মতো স্কুল সার্ভিস কমিশনের চিন্তা করতে সরকারকে অনুরোধ করেছেন। ছোটদের স্কুলমুখী করবার জন্য স্কুলে মিড-ডে মিল চালু করার দাবি করেন সেই আমলেই।
লেখক পরিচিতি :
শিক্ষা সংক্রান্ত বহুবিধ কর্মকান্ডের সঙ্গে ড. সাম সারাজীবনই নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন। শিক্ষা সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণণ পদে আসীন ছিলেন। ১৯৬৩ সাল থেকে কৃষ্ণনগর পৌরসভার শিক্ষা সমিতির সভাপতি ছিলেন, তিনি Board of Review of Publication W.B. Govt Chairman ছিলেন (১৯৭২), বঙ্গীয় সংস্কৃত শিক্ষা পরিষদের (পশ্চিমবঙ্গ সরকার) সভাপতি ছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট, পি.জি. ফ্যাকালটি কাউন্সিল এবং পি.এইচ.ডি. কমিটির সদস্য ছিলেন। সদস্য ছিলেন এগজিকিউটিভকাউন্সিল অফ যাদবপুর ইউনিভার্সিটি। পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি কার্যনিবাহী কমিটি, রবীন্দ্র সদন কমিটি, রবীন্দ্র রচনাবলী প্রকাশনা কমিটির সদস্য ছিলেন। সদস্য ছিলেন মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, গভর্নিং বডিস অফ স্কুল এ্যান্ড কলেজেস ও ইনফরমেশন এ্যান্ড কালচারাল আফেয়ার্স (পশ্চিমবঙ্গ সরকার)। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের বাংলার পাঠমসূচি প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬০ সালেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বি.এ. কোর্সের সিলেবাস কমিটির মেম্বার ছিলেন এবং বি.এ কোর্সের বাংলা পাঠ্যসূচি প্রণয়নের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পশ্চিবঙ্গের বাইরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। রামতনু লাহিড়ী অধ্যাপক পদের থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি কিছু দিনের জন্য মাজদিয়া সুধীররঞ্জন লাহিড়ী মহাবিদ্যালয়ে Administrator পদে আসীন হয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালে তিন বৎসর থেকে ছয় বছরের শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থের বিকাশের জন্য শিশুমঙ্গল পর্যৎ নদীয়া" গড়ে উঠেছিল ওনার নেতৃত্বে। বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠার তিনিই ছিলেন। প্রাণপুরুষ। বিশেষ উল্লেখ্য, তাঁর জন্মভূমি বাঁকুড়া জেলার বেলিয়াতোড় গ্রামে যামিনী রায় কলেজটির প্রতিষ্ঠাতাও তিনি।
এই শিক্ষারতী মহামানবকে আমাদের প্রণাম
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি