টুং সোনাদা ঘুম পেরিয়ে
(দার্জিলিংয়ের পার্বত্য রেলপথের কথা)
রবার্ট বি. অ্যাডিস
ভাষান্তর : দীপ্তজিৎ মিশ্র
প্রচ্ছদ : অভিষেক গুপ্ত
যদি ভোটাভুটি হয় দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে বনাম 'টয় ট্রেন', তবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় লাভ করবে 'টয় ট্রেন'।
দার্জিলিং নামের চিরন্তন নস্টালজিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাওয়া এই রেলপথ সুপ্রাচীন। তার সূচনার কথা আজ থেকে প্রায় ১০৫ বছর আগে লিখেছিলেন রবার্ট বি. অ্যাডিস। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের উদ্যোগেই প্রকাশিত হয়েছিল বহু চিত্রসমৃদ্ধ সেই বই Darjeeling and its Mountain Railway'। উদ্দেশ্য ছিল, পর্যটকদের সামনে এই পার্বত্য এলাকা, এর ইতিহাস এবং ঐতিহ্য তুলে ধরা। 'টুং সোনাদা ঘুম পেরিয়ে' পূর্বোক্ত বইটিরই বঙ্গীকরণ যেখানে পুরোনো সব ছবি পুনরুদ্ধারের পাশাপশি সংযোজিত হয়েছে দু'টি আকর্ষণীয় পরিশিষ্ট।
-------------------
...তখন শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত বাষ্পচালিত ট্রামপথের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই সময়ে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানির প্রতিনিধি ছিলেন মি. ফ্র্যাঙ্কলিন প্রেস্টেজ। ১৮৭৮ সালে এক বিস্তারিত রূপরেখা নিয়ে তিনি বঙ্গের সরকারের কাছে এই প্রস্তাব দেন। যা খতিয়ে দেখার জন্য লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার অ্যাশলে ইডেন একটি কমিটি তৈরি করেন। কমিটি রায় দেয়, বাষ্পচালিত ট্রামপথ তৈরি করা সম্ভব।
১৮৭৯ সালে মি. প্রেস্টেজের রূপরেখা সানন্দে গৃহীত হয়। পুরোদমে শুরু হয়ে যায় ট্রামপথের নির্মাণকাজও। ১৮৮০ সালের মার্চের মধ্যে তিনধারিয়া পর্যন্ত পথ খুলে দেওয়া হয়। দার্জিলিংয়ে আসা প্রথম ভাইসরয় লর্ড লিটন এতখানি রাস্তা সেই রেলপথেই আসেন। বছর শেষ হওয়ার আগেই কার্শিয়াং পর্যন্ত লাইন পাতা শেষ হয়ে যায়। ১৮৮১ সালের জুলাইয়ে সরাসরি দার্জিলিংয়ে পৌঁছোনোর জন্য পথ খুলে দেওয়া হয়। তখন কোম্পানির নাম বদলে রাখা হয় 'দার্জিলিং-হিমালয়ান রেলওয়ে কোম্পানি।' কলকাতার অন্যতম পুরোনো সংস্থা মেসার্স গিল্যান্ডার্স আর্বাথনট অ্যান্ড কোংকে কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এই রেলপথ নির্মাণ শুরুর সময় থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিনিধি হিসেবে এই সংস্থাই রয়েছে।
....এরপর ট্রেনটি সুউচ্চ সিঞ্চল পাহাড়ের ছায়াতলে ঘুম বাজারে ঢুকে তা অতিক্রম করে। তিব্বত যাওয়ার রাস্তার উপরে অবস্থিত এই ঘুম হল তিব্বতি বা ভুটিয়াদের প্রথম আস্তানা। উজ্জ্বল রঙের মঙ্গোলীয় চেহারার নারীদেরও রঙিন পোশাকে সজ্জিত এবং ভারী সোনা ও ফিরোজা পাথরের অলংকারে ভূষিতা হিসেবে দেখা যাবে।
ঘুম স্টেশন এই রেলপথের সর্বোচ্চ স্থান (৭,৪০৭ফুট)। এখান থেকে ট্রেনটি পাহাড়ের ঢাল বেয়ে চার মাইল নীচে দিকে নেমে দার্জিলিং স্টেশনে (৬,৮১২ ফুট) পৌঁছোয়।
মেল ট্রেনটি ঘুম ছেড়ে যাওয়ার সময় পশ্চিমে যে সুউচ্চ পাহাড়গুলো দেখা যায়, সেগুলি সিঙ্গালিলা রেঞ্জের টুংলু এবং সান্দাকফু শৃঙ্গ।
লিটল রঙ্গিত নদী উপত্যকার ঢাল বরাবর চলতে চলতে রেলপথটি একটি অন্তরীপের উপর দিয়ে যায় এবং বাতাসিয়া লুপ প্রদক্ষিণ করে। এখান থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা তুষারশৃঙ্গের প্রথম বিস্তৃত দৃশ্য পর্যটকের সামনে উন্মোচিত হয়। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে পর্যটক দেখবেন মাঝখানে সুউচ্চ কাঞ্চনজঙ্ঘার যমজ শিখর দাঁড়িয়ে আছে, বাঁ দিকে কাবরু ও জানু এবং ডান দিকে পান্ডিম শৃঙ্গ।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি