উপহাসের কলকাতা
সুনীল দাস
বাবু কলকাতার অন্দরমহলের হাড়ির খবর নিয়ে লেখা হয়েছে নানান নকশা। আঁকা হয়েছে ব্যঙ্গচিত্র। এইসব 'কঞ্চিতে জন্মানো বংশ লোচনদের' কীর্তিকলাপ আর হুল্লোড়ে স্বাস্থ্যকর নাগরিক জীবন কিভাবে ব্যাহত হয়েছিল, তা কলকাতাপ্রেমী পাঠকের অজানা নয়। ইংরেজ রাজত্ব কায়েম হবার পর এদেশের সামাজিক কাঠামোতে বড় রকমের ওলট-পালট ঘটে যায়। এক শ্রেণীর ধুরন্ধর মানুষ সাহেবদের মোসাহেবি করে দু-পয়সা কামিয়ে হঠাৎ বড়লোক হয়ে ওঠেন। তাঁরা কুকুরের বিয়েতে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছেন। তেল মেখে চার ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে গঙ্গাস্নানে যেতেন, মুক্তাভস্মের চুন দিয়ে পান খেতেন, গোলাপজল দিয়ে শৌচ করতেন, দোল-দুর্গোৎসবে বাঈজি আর মদের ফোয়ারা ছুটাতেন, সোনা-রুপোয় বাঁধানো গড়গড়ায় তামুক সেবন করতেন সেই সব বাবুরা সহস্রাবিধ পথে খুঁজতে শুরু করেছিলেন জীবনের চরিতার্থতা। বিগত কলকাতার উপাখ্যান নাগরিক বাঙালির পূর্বজন্মের কাহিনি। লেখক সেই কাহিনিকে কেন্দ্র করে তাঁর কলমে ফুটিয়ে তুলেছেন সেকালের কলকাতার অদ্ভুত এক আলো-অন্ধকারের জগৎ। তাঁর লেখায় সময়ের ইতিহাস যেমন ধরা পড়েছে তেমনি ফুটে উঠেছে সেকালের কলকাতার এক বর্ণময় জীবনের জ্বলন্ত ছবি।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি