অদ্রিজা
সৌরভ আঢ্য
"আজি শঙ্খে শঙ্খে মঙ্গল গাও জননী এসেছে দ্বারে।"
আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোক-মঞ্জীর। মা আসছে। আপামর বাঙালির হৃদয়ে লেগেছে তার আনন্দ হিন্দোল। দুর্গা পূজা কেবল পূজা না এ আমাদের প্রাণের উৎসব, আমাদের আবেগ।
আর মা দুর্গা কবেই তার ঐশ্বরিক বিভূতিটুকু নির্দ্বিধায় ঝেড়ে ফেলে এই বাংলার মাটির চন্দন গায়ে মেখে আমাদের বাড়ির মেয়ে হয়ে গেছে। আমাদের তাকে বকতে পারি, গালি দিতে পারি আবার তার সঙ্গেই আমরা আমাদের আনন্দ, দুঃখ কষ্ট ভাগ করে নিই; নিজের সবটুকু তার কাছে সঁপে দিয়ে ধর্ম, অর্থ, কাম আর মোক্ষ কামনা করি।
সে আমাদের মেয়ে, মা, বন্ধু আবার সেই আমাদের ইষ্ট, ঈশ্বর। শক্তিক্ষেত্র এই বাংলা তাই তার নিজের মেয়ের আসার জন্য সারা বছর পথ চেয়ে বসে থাকে।
আমাদের গোটা বছরের কর্মকাণ্ড, গোটা বছরের ভালো মন্দ সব কিছুর প্রস্তুতি তার আগমনকে ঘিরেই আবর্তিত হয়।
আর সেই কারণেই পুরাণের মেনকার সঙ্গে আমরা কখন যেন একাঙ্গীভূত হয়ে গেছি। আমরাই যেন মেনকা, আমরাই তো আবার পর্বতরাজ হিমালয়। আমরাই বলি,
"এবার উমা এলে আর পাঠাবো না।"
বাংলার আগমনী আর বিজয়া গান যুগে যুগে আমাদের হৃদয়ের এই কথাই বারে বারে শুনিয়েছে।
পুরাণের অনন্ত আখ্যান আর বাঙালির ঘরের মেয়ে উমার চিরচেনা আবেগ মিশে গেছে 'অদ্রিজা'-য়।
এখানে দেবী একইসঙ্গে কন্যা ও বিশ্বজননী-যাঁর আবাহন-বিসর্জনের আড়ালেও জেগে থাকে এক নিত্য, অনন্ত মাতৃসত্তা। সেই সঙ্গে এই লেখা বাংলার আগমনী আর বিজয়ার সেই সব নামী, অনামী কথাকার, শিল্পীদের প্রতি লেখকের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি