আঘাত
প্রফুল্ল রায়
"আজকেও নিয়ম অনুযায়ী ওখানে মিটিং বসবে, তবে সেটা অন্য সব দিনের মতো নয়। আজ স্বয়ং কাগজের সম্পাদক ভবতোষ সান্যাল বেছে বেছে কয়েকজন রিপোর্টারকে ডেকেছেন। বাকি সবাই বাদ। এই মিটিংটা নাকি ভীষণ জরুরি। কেন জরুরি সেটা অবশ্য আগে থেকে জানানো হয়নি।
কাল রাত্তিরে সাড়ে দশটায় রণেশ কাজ চুকিয়ে অফিস থেকে যখন বেরুতে যাচ্ছে, নিউজ এডিটর সুশোভন বসাক বার বার তাকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, 'জানি তুমি ভীষণ পাংচুয়াল। তবু বলছি, কাল ঠিক সময়ে মিটিংয়ে চলে আসবে। দিস ইজ ভেরি, ভেরি আর্জেন্ট।'
রণেশ বলেছিল, 'আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন সুশোভনদা-'
আজ একটা চারে কালীঘাট থেকে মেট্রো ধরেছিল সে। একটা চব্বিশে তার সেন্ট্রাল স্টেশনে পৌঁছবার কথা। সেখান থেকে মিনিট চারেক হাঁটলেই তাদের অফিস। দেড়টার আগেই কনফারেন্স রুমে চলে যেতে পারত রণেশ। কিন্তু পার্ক স্ট্রিট পেরুবার পর কী একটা যান্ত্রিক গোলমালে পাতাল রেল সুড়ঙ্গের ভেতর অনেকক্ষণ আটকে ছিল। তার দেরি হওয়ার। কারণ হল এটাই।
রণেশ 'দৈনিক প্রভাত'-এর নাম-করা ক্রাইম রিপোর্টার। যেমন দুঃসাহসী তেমনি বেপরোয়া। তার বেশ কয়েকটা প্রতিবেদন অনেককে চমকে দিয়েছে। কিন্তু কাগজটা যেহেতু। 'দৈনিক প্রভাত', সেজন্য ব্যাপকভাবে তেমন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করতে পারেনি।
সাংবাদিক হিসেবে রণেশের গুরুত্ব কতখানি সেটা অন্য বড় কাগজগুলো খুব ভালো করেই জানে। চার পাঁচ লাখের ওপর সার্কুলেশন, এমন দু'টো কাগজ তাকে অফার দিয়ে রেখেছে যেদিন ইচ্ছে সে তাদের ওখানে জয়েন করতে পারে। তার জন্য সবসময় ওদের দরজা খোলা। 'দৈনিক প্রভাত' তাকে যা দেয়, ওরা তার তিনগুণ মাইনে দেবে। সেই সঙ্গে সর্বক্ষণের গাড়ি। পার্কস, মেডিকেল অ্যালাওরেন্স, হাউস রেন্ট ইত্যাদি মিলিয়ে অঙ্কটা যা দাঁড়াবে তা মাথা ঘুরিয়ে দেবার মতো। তবু মাঝারি মাপের 'দৈনিক প্রভাত'কে ছেড়ে যেতে পারেনি সে। কারণটা হল আবেগ এবং কৃতজ্ঞতা।..."
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি