আমাদের শহর সেই বছর : গীতাঞ্জলি শ্রী

(0 পর্যালোচনা)
লিখেছেন/সম্পাদনা করেছেন
সঞ্চারী সেন

মূল্য
₹550.00
পরিমাণ
মোট দাম
শেয়ার করুন

আমাদের শহর সেই বছর 

গীতাঞ্জলি শ্রী 

অনুবাদ : সঞ্চারী সেন 

আপাতদৃষ্টিতে সহজ অথচ খুব দুরূহ কাজ, ‘ হামারা শহর উস বরস (আমাদের শহর সেই বছর) গ্রন্থে মুখোমুখি হতে হয় এক কঠিন সময়ের বহুমাত্রিক এবং সংকট সৃষ্টিকারী আতঙ্কজনক বহুতর সত্যের সঙ্গে। কথা ‘সেই বছর’ নিয়ে; যখন আমাদের শহর প্রতিদিন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আক্রান্ত হত। অগ্নিসংযোগ, মারামারি, এবং তজ্জনিত সন্ত্রাস প্রাত্যহিক ঘটনা হয়ে এক ভয়াবহ স্বাভাবিকতার রূপ ধারণ করেছিল। এমন কৃত্রিম এক জীবনযাপন স্বাভাবিক হতে থাকায় তা ক্রমশ শহরবাসীর মানসিকতায়, ব্যাক্তিত্বে এমনকি সম্পূর্ণ অস্তিত্বকে আঘাত করতে শুরু করেছিল। কথাটা আসলে শুধু সেই বছরভর যা যা ঘটেছিল তা নিয়ে নয়। সেই বছরটাকে আমরা আজ পর্যন্ত টেনে নিয়ে এসেছি। আবার শুধু আমাদের শহরের কথাই নয়,’ অন্য শহরগুলোর মতোই আমাদের শহর’—ভেতরে ভেতরে জ্বলতে থাকা উতপ্ত হতে থাকা –‘ স্রোত ও প্রতিবিম্ব দুইই’, বর্তমান পরিস্থিতির। এক আততায়ী… যার সমাধান এখনই খুঁজতে হবে; কিন্তু পরিস্থিতি বোঝা গেলে তবেই তো তার সমাধান পাওয়া যাবে। পুরনো ধারণাগুলো যথাযথ নয়, নতুন কিছু ভাবাও যাচ্ছে না। সময়ই নেই যে যখন ভাবা যাবে তখনই সেটা কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতির সঙ্গে যোঝা যাবে। কে জানে ততক্ষনে কী থেকে কী ঘটে যাবে। সেই সব সঙ্গিনগুলো , যেগুলো এখনো দূরে আছে, যা ওদের দিকে তাক করে, তারা আমাদের দিকেও না ঘুরে যায়, সেই ধুলো ধোঁয়া যা ওদের ভরপুর, এদিকেও না ঘিরে আসে ! এতদিন পর্যন্ত যারা মনে করতেন যে দাঙ্গা ওদিকে আছে – দূরে, ওপারে, এইসব লোকেদের মধ্যে তাঁরা দেখেছেন ,’ওদিক’,’এদিক’ পর্যন্ত এগিয়ে এসেছে, ওই লোকেরা ‘আমরা’ও আর এদিক-ওদিক ওরা-আমরা করে নিজেকে মিথ্যে সান্ত্বনা দেওয়া যাচ্ছে না। যেখানে দাঙ্গা হচ্ছে , সেখানে রক্তস্রোত বইছে। সে স্রোত এখানেও বয়ে যাচ্ছে, আমাদের পাড়ার নিচে। এবং সেই দেহ- অন্তর্গত যে দাঙ্গা লেগেছে,তার মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টাই এই কাহিনির মুলে। নিজের ময়না তদন্তের জন্য সার্জেনের টেবিলে নিজেকে সঁপে দেওয়ার মতো। নিজেকে নগ্ন করার প্রয়াসই একমাত্র নিজের শহরকে বোঝা , তার চলমান প্রবাহকে ঘুরিয়ে দেবার সূচনা বলে বিবেচিত হতে পারে। এই সূচনাই এক প্রবলতর প্রয়োগের মাধ্যমে গীতাঞ্জলি শ্রী ‘ হমরা শহর উস বরস’ (আমাদের শহর সেই বছর) নামের উপন্যাসটিতে বলেছেন। জানতে না পাড়ার ক্রমবর্ধমান অসহায়তার মাঝে জানবার দিকে নিয়ে যেতে যেতে।

লেখক পরিচিতি :

গীতাঞ্জলি শ্রী তাঁর বহু চর্চিত, বহু আলোচিত উপন্যাস ‘রেত সমাধি’র জন্য ২০২২ সালে ‘আন্ত : রাষ্ট্রীয় বুকার পুরস্কার লাভ করেন। পাঁচটি উপন্যাস - ‘মাই’, ‘হামারা শহর উস বরস’, ‘তিরোহিত’, ‘খালি জগহ’, ও ‘রেত সমাধি’র পাশাপাশি তাঁর পাঁচটি গল্পগ্রন্থ হল - ‘অনুগুঞ্জ’, ‘বৈরাগ্য’, ‘ মার্চ’, ‘মা আউর সাকুরা’, ‘ইহা হাতি রহতে থে’, ‘প্রতিনিধি কহানিয়া’। এছাড়াও আছে তাঁর একটি গবেষণা গন্থ ‘ বিটুইন টু ওয়ার্ল্ড : অ্যান ইন্টেলেকচুয়াল বায়োগ্রাফি অফ প্রেমচন্দ’। সাহিত্যধর্মী লেখালেখির পাশাপাশি তিনি হিন্দি ও ইংরেজিতে অনান্য লেখাও লিখে থাকেন। তাঁর লেখাপত্র কয়েকটি ভারতীয় ভাষা-সহ বিভিন্ন ইউরোপীয় ভাষাতেও অনূদিত হয়েছে। থিয়েটারের জন্যও তিনি লেখালেখি করে থাকেন। তিনি ইতিমধ্যেই ‘বনমালী রাষ্ট্রীয় পুরস্কার’, ‘কৃষ্ণ বলদেব বৈদ পুরস্কার’, ‘কথা ইউ. কে. সম্মান’, ‘হিন্দি অকাদেমি সাহিত্যকার সম্মান’, ও ‘দ্বিজদেব সম্মান’-এ সম্মানিত হয়েছেন। গীতাঞ্জলি বসবাস ও ফেলোশিপ-এর কারণে স্কটল্যান্ড, সুইটজারল্যান্ড, জার্মানি, আইসল্যান্ড, ফ্রান্স, কোরিয়া, জাপান প্রভৃতি দেশে গিয়েছেন। ওঁর উপন্যাস ‘রেত সমাধি ২০২১ সালের ‘ Emile Guimet Prize ‘- এর জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়েছিল।

পর্যালোচনা ও রেটিং

0 মোট 5.0 -এ
(0 পর্যালোচনা)
এই বইয়ের জন্য এখনও কোন পর্যালোচনা নেই

বই সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা (0)

প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য

অন্যান্য প্রশ্নাবলী

কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি