অসমাপ্তির পর
সমীরণ সরকার
ভাইঝির বিয়ে উপলক্ষে দিল্লি থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারী শুভব্রত। ঝড় বৃষ্টির সন্ধ্যা। তাঁর গ্রামের বাড়ি পর্যন্ত না গিয়ে টোটোওয়ালা একতাম বাগানের মুখে নামিয়ে দিল তাঁকে। নির্জন আমবাগান পার হয়ে হঠাৎ রাস্তার ধারে শুভব্রত দেখতে পেলেন, এক জ্ঞানহীন ধর্ষিতা কিশোরীকে। তিনি পাঁজাকোলা করে মেয়েটিকে নিয়ে গেলেন এক ডাক্তারের কাছে, চিকিৎসার জন্য। ডাক্তারবাবু চিকিৎসা শুরু করার আগে নিকটবর্তী পুলিশ ক্যাম্পে খবর দিলেন।
তারপর থেকে শুভব্রতের জীবনে নেমে এলো নানা রকম অশান্তি। পুলিশের সন্দেহ এবং নিয়মিত জিজ্ঞাসাবাদ, জেরায় জেরায় জেরবার হওয়া, আত্মীয়-স্বজনের আদ্ভুত দৃষ্টিতে তাঁকে দেখা এবং তাঁদের অদ্ভুত রকমের জিজ্ঞাসায় ধ্বস্ত শুভব্রত কী শেষ পর্যন্ত ওই অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছিল নাকি মানবিকতা দেখাতে গিয়ে তলিয়ে গেছিল অতল অন্ধকারে?
উত্তর আছে 'অসমাপ্তির পর' উপন্যাসে।
কলেজের গার্ড ইয়ারের ছাত্র পলাশ এবং ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্রী কুর্চি। একদিন ঝড় বৃষ্টির সন্ধ্যায় এক রেল স্টেশনের প্লাটফর্মে একটি অদ্ভুত ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিচয় হয়েছিল দুজনের। ক্রমশ তা এগিয়ে গেছিল নিমল ভালবাসায়।
কুর্চির সঙ্গে ছেলের বিয়ে দিতে আগ্রহী হয়েছিলেন পলাশের মা। কিন্তু বিয়ের কথাবার্তা পাকা করার দিনে হঠাৎ কুর্চির মাকে দেখে মত বদলে যায় তাঁর। কিন্তু কেন?
এরপর পলাশের জীবন থেকে হারিয়ে যায় কুর্চি।
হঠাৎ একদিন পলাশের মা বুঝতে পারেন যে, তিনি কুর্চির মাকে ভুল বুঝেছিলেন। তিনি তাঁর ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাইলেন। তারপর? পলাশ কি খুঁজে পেয়েছিল কুর্চিকে? কী হয়েছিল পরিণতি? জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে 'ব্যাধি'।
একটি ছোট উপন্যাস এবং একটি উপন্যাসিকার সংকলন এই গ্রন্থ---- 'অসমাপ্তির পর'। দুটি উপন্যাসে গল্প এগোনোর ফাঁকে ফাঁকে উঠে এসেছে অনেক সামাজিক প্রশ্ন, যা পাঠককে ভাবিয়ে তুলবে নতুন করে।
লেখক সম্পর্কে :
সমীরণ সরকার রাঙামাটির দেশ বীরভূমের মানুষ।
জন্ম : ২৭শে ফাল্গুন, ১৩৫৯ বঙ্গাব্দ, পিতা-ডাঃ রনজিৎ কুমার সরকার, মাতা-বন্দনা সরকার।
খুব ছোট থেকেই লেখালেখিতে হাতেখড়ি কর্মজীবনে ব্যাংক-আধিকারিকের দায়িত্বপূর্ণ কাজ সামলানোর পাশাপাশি নিছক ভালোবাসার টানে সাহিত্য জগতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
বড়দের জন্য গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ইত্যাদি লেখার পাশাপাশি ছোটদের জন্যও ছড়া, গল্প, উপন্যাস, নাটিকা ইত্যাদি লেখেন।
১৯৮৮ তে তার গল্প 'বাস্তু' হায়দ্রাবাদে আয়োজিত সারা ভারত গল্প প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হয় এবং তেলেগু ভাষায় অনুদিত হয়। ২০১৪ তে তার উপন্যাস 'সমুদ্র মন্থনের পরে' 'বিভূতিভূষণ স্মৃতি পুরস্কারে' সম্মানিত হয়। ২০১৬ তে ওই উপন্যাসটি পুনরায় 'রামশংকর স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করে। ২০২২ সালে তার উপন্যাস 'প্রেম অন্তহীন' 'সুদেবী সাহিত্যরত্ন ২০২২' সম্মাননায় ভূষিত হয়। ২০২৩ সালে 'প্রেম অন্তহীন' উপন্যাসটি পুনরায় 'রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় স্মৃতি পুরস্কার' লাভ করে।
২০২৩ সালেই তাঁর 'শিকড়ের সন্ধানে' উপন্যাসটি 'তরুণ তপন স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কারে' ভূষিত হয়।
২০২৪ এর ১৫ই নভেম্বর কিশোরদের জন্য লেখা তার গ্রন্থ 'এক ডজন বাছাই কিশোর গল্প' নবপ্রভাত সম্মাননা, ২০২৪ লাভ করে।
২০২৪ এর ১লা ডিসেম্বর, তার উপন্যাস, 'অপারেশন প্যান্থেরা টাইগ্রিস', 'হাজারদুয়ারি সাহিত্য সম্মান ২০২৪ এ ভূষিত হয়। ২০২৫ এ প্রকাশিত তাঁর কিশোর উপন্যাস 'নীলকণ্ঠ পাখির পালক' 'ওই বছর অক্টোবর মাসে মফঃস্বল বাংলার শিল্প ও সাহিত্য একাডেমি ট্রাস্ট কর্তৃক'সরস্বতী রায় স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার, ২০২৫ লাভকরে। ২০২৫ এ প্রকাশিত তাঁর শিশু গল্প গ্রন্থ 'ঠাকুরদাদাই গল্প বলো' গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ 'স্বপ্ন উড়ান সাহিত্যকৃতি সম্মাননা ২০২৫ লাভ করে।
এছাড়া বীরভূম সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক একাধিকবার, সৃজনী সাহিত্য গোষ্ঠী, বিভা স্মারক সম্মাননা, বিশ্ব বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন কর্তৃক প্রদত্ত বিশেষ সম্মাননা ইত্যাদি ছোট বড় অনেক পুরস্কার প্রাপ্তি এবং সম্মাননার মাধ্যমে তাঁর সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতি মেলে।
এ যাবৎ তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৩১ টি।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি