বাদাম : স্বাদ। সাহিত্য। সংস্কৃতি

(0 পর্যালোচনা)
লিখেছেন/সম্পাদনা করেছেন
Mahin Gupta
প্রকাশক বইদেশিক

মূল্য
₹450.00
পরিমাণ
মোট দাম
শেয়ার করুন

বাদাম : স্বাদ। সাহিত্য। সংস্কৃতি 

মহীন গুপ্ত 

বিশ শতকের প্রথমার্ধ, যখন বিজ্ঞান ও শিল্প একে অপরের হাত ধরে সভ্যতার গতিপথ বদলে দিচ্ছিল, সেই সময়েই ইংল্যান্ডে জন্ম নিল এক বিস্ময়ের কাহিনি- চিনাবাদাম থেকে তৈরি এক কৃত্রিম তন্তুর নাম আরডিল (Ardil)।

১৯৩৭ সালে ইম্পেরিয়াল কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ বা ICI নামের সংস্থা এই তন্তু তৈরির কৌশলের পেটেন্ট নেয়। চিনাবাদামের প্রোটিনকে রসায়নের জাদুতে রূপান্তরিত করে তারা তৈরি করেছিল এমন এক সুতো, যা দেখতে উলের মতোই, বোনা যায়, রং করা যায়, এমনকি কাপড়ও বানানো যায়।

প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিযোগিতা সহজ নয়। ১৯৩৯ সালে শুরু হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, আর ব্রিটেন হঠাৎই পড়ে গেল উলের ঘাটতিতে। সৈন্যদের জন্য ইউনিফর্ম, কম্বল, কোট- সবকিছুর জন্য প্রয়োজন প্রচুর উল। এই সময়েই ব্রিটিশ সরকার চোখ ফেরাল ICI-এর আরডিল প্রকল্পের দিকে। চিনাবাদাম থেকে তৈরি তন্তু যদি সত্যিই উলের বিকল্প হতে পারে, তবে তা শুধু যুদ্ধের সময়ের সংকট মেটাবে না, পূর্ব আফ্রিকার চিনাবাদাম-চাষিদের জন্যও এনে দেবে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ। ফলে ICI-এর গবেষণাগারে বিনিয়োগ বাড়ল, সরকারও হাত বাড়াল। যুদ্ধের রণহুংকারে যেমন বন্দুকের শব্দ ছিল, তেমনই ছিল চিনাবাদাম থেকে নতুন তন্তু জন্ম দেওয়ার উত্তেজনাও।

পরীক্ষার অংশ হিসেবে এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছিল ভারতে। আরডিলের একটি নমুনা পাঠানো হয় ICI-এর ভারতীয় কারখানার এক পরিচালকের কাছে। তিনি সাধারণ পরীক্ষায় বিশ্বাস না রেখে সিদ্ধান্ত নিলেন, এই তন্তু দিয়ে একটি কার্পেট বোনানোর। সেই কার্পেট বছর বছর পায়ের ধাক্কা, ধুলোবালি, দৈনন্দিন ব্যবহারের মধ্যেও টিকে রইল- বছরের পর বছর ধরে তার প্রায় কোনও ক্ষয় দেখা গেল না। খবরটি পৌঁছোল ইংল্যান্ডে, আর ICI-র বিজ্ঞানীরা তখন যেন এক নতুন আত্মবিশ্বাসে ভরে উঠলেন তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবের মাটিতে দাঁড়াতে পারবে।

যুদ্ধ শেষ হতেই ICI তাদের সেই স্বপ্নকে আরও বড়ো করে তুলল। ১৯৪৬ সালে তারা স্কটল্যান্ডের ডামফ্রিজ শহরে স্থাপন করল বিশাল এক কারখানা, যাতে বিনিয়োগ করা হয় ২১ লক্ষ পাউন্ড। বিশাল চিমনি, উঁচু কাচের টাওয়ার, স্টিলের গম্বুজ দেখতে যেন শিল্প বিপ্লবেরই নতুন প্রতীক। কারখানাটি পরে ডামফ্রিজের গর্ব হয়ে উঠেছিল- তার ৩৩ মিটার উঁচু টাওয়ারটি ২০০৯ সালে ভেঙে ফেলা হয়।

১৯৫০-এর দশকের শুরুতে আরডিলকে উলের বিকল্প হিসেবে বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে দিতে ICI ব্যাপক প্রচার চালায়। বিজ্ঞাপন, প্রদর্শনী, সংবাদপত্র সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে চিনাবাদাম থেকে তৈরি তন্ত্রর গল্প। অস্ট্রেলিয়ার উল ব্যবসায়ীরা তখন উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে; ১৯৫৩ সালের ২৮ জুন সানডে হেরাল্ড পত্রিকায় প্রকাশিত হয় একটি প্রতিবেদন, 'A New Threat to Wool' 

মনে হচ্ছিল, চিনাবাদাম হয়তো একদিন উলের সিংহাসন ছিনিয়ে নেবে।

কিন্তু যত দ্রুত সে আশার আলো জ্বলে উঠেছিল, তত দ্রুতই তা ম্লান হয়ে গেল। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে উলের দাম হঠাৎ কমে গেল, ফলে আরডিলের বিকল্প হিসেবে বাজার হারিয়ে যেতে লাগল। অন্যদিকে চিনাবাদামের দাম বেড়ে চলল, যার উপর নির্ভর করেই এই তন্তু তৈরি হত। এদিকে ICI-এরই আর-একটি আবিষ্কার টেরিলিন (Terylene) এবং আমেরিকার নাইলন (Nylon) দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠল। বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ল, লাভ কমল। সবচেয়ে বড়ো আঘাত এল পূর্ব আফ্রিকার চিনাবাদাম প্রকল্পের ব্যর্থতা থেকে- ব্রিটিশ সরকারের যে 'East African Groundnut Scheme' থেকে আরডিলের কাঁচামাল আসার কথা ছিল, তা ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়।

বিশাল খরচ, অনাবাদি মাটি, অদক্ষ পরিকল্পনা- সব মিলে প্রকল্পটি ভেঙে পড়ে। চিনাবাদামের ঘাটতি দেখা দেয়, আরডিল উৎপাদন থমকে যায়।

শেষ পর্যন্ত ১৯৫৭ সালে ICI বাধ্য হয় এই প্রকল্প বন্ধ করতে।


***************


আজ থেকে কলেজ স্ট্রিটের বিপণিগুলি এবং অনলাইনে পুরোদস্তর পাওয়া যাচ্ছে ------   বাদাম: স্বাদ সাহিত্য সংস্কৃতি 


মূল্য ৪৫০/-


প্রকাশক বইদেশিক

পর্যালোচনা ও রেটিং

0 মোট 5.0 -এ
(0 পর্যালোচনা)
এই বইয়ের জন্য এখনও কোন পর্যালোচনা নেই

সংশ্লিষ্ট বই

বই সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা (0)

প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য

অন্যান্য প্রশ্নাবলী

কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি