বামনের চন্দ্রস্পর্শাভিলাষ
বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত
সম্পাদনা : সর্বানন্দ চৌধুরী
'বাবা-মা তাঁদের সাড়েতিন বছরের ছেলেকে নিয়ে গিয়েছিলেন ১৯৩৭ সালের এক মিউজিক কনফারেন্সের প্রেক্ষাগৃহে, সংগীতরসে সিক্ত করার জন্য। স্থান- অবিভক্ত বাংলার দিনাজপুর শহরের টাউনহল-জাতীয় একটি ঘর। কনফারেন্সের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন চিরস্মরণীয় সংগীতাচার্য জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ গোস্বামী। তাঁর অমৃতকণ্ঠের সংগীতসিঞ্চনে ছেলের কানে 'সা-রে-গা-মা'র অঙ্কুরোদ্গম যদি হয় এই বোধহয় বাবা-মায়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল।
কিন্তু ফল হল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। ছেলে হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদকে বলল, চুপ করো। অত চ্যাঁচাচ্ছ কেন?'
কণ্ঠস্বর যথেষ্ট জোরালো হয়নি বোধহয়, সুতরাং কথাটা কারোরই বোধগম্য হল না। কিন্তু ছেলে ছেড়ে দেবার পাত্র নয়। সে নিজের বসবার চেয়ারটার ওপর উঠে দাঁড়িয়ে দ্বিগুণ জোরে বলল, 'বললাম না, চুপ করো। তবুও গোলমাল করছ?'
এবার জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ তাকিয়ে দেখলেন। ব্যাপারটা অনুধাবন করে মুচকি হেসে আবার গাইতে লেগে গেলেন। কিন্তু শিশু-শ্রোতাটিকে তার মা তৎক্ষণাৎ ছোঁ মেরে হলের বাইরে নিয়ে এলেন, কানমলা এবং চড়ও দু-একটা নিশ্চয়ই জুটেছিল তারপরে।
এই হল সংগীতের সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ। এবং পরিচয়। অধিকাংশ সংগীতশিল্পীরই রাশে বহুদিন প্রবহমান সংগীতের ধারা থাকে, থাকে জন্মাবধি ধমনীতে সংগীতের স্রোত। সেদিক থেকে বলার মতো আমার কিছুই নেই।.....'
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি