বনেদি বাড়ির অন্দরমহল
স্বস্তিনাথ শাস্ত্রী
একটি পরিবারের ইতিহাস মানে শুধুই সেই পরিবারের উত্থান পতনের গল্প, পরিবারের মুখরোচক কাহিনি নয়। একটি পরিবারের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকে দেশের, সমাজের, একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ইতিহাসও। সেই সময়ের লোকাচার, সংস্কৃতি, সংস্কার, সমাজনীতি, অর্থনীতি সবই জুড়ে থাকে। প্রায় দু' ডজন পরিবারের অন্দরমহলের কাহিনি বর্ণনা করতে গিয়ে লেখক গল্পচ্ছলে তুলে এনেছেন সেই সময়কে।
'লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন'; এই প্রবাদের সঙ্গে কমবেশি সবাই পরিচিত। কিন্তু জানেন। কি, কে এই গৌরী সেন? কীভাবেই বা তাঁর নামে এই প্রবাদের সৃষ্টি হল, কোথায় থাকতেন তিনি। তাঁর উত্তরপুরুষরা কী করেন। এই সব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে এই বইয়ে। সত্যজিৎ রায়কে আলাদা করে চেনাতে লাগে না বাঙালি তথা ভারতীয়দের। কিন্তু তাঁর পূর্বপুরুষদের সম্বন্ধে কতটা জানেন? অধিকাংশেরই দৌড় উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী পর্যন্ত। কজন খবর রাখেন যে, আদতে বিহারে বাস ছিল এই বরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালকের পূর্বপুরুষদের। তাঁদের পদবী ছিল 'দেও' বা 'দেব'। খন্যান রাজবাড়ির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যিনি, তিনি আদতে এক বর্গি যোদ্ধা। ভাস্কর পণ্ডিতের সঙ্গে বাংলায় হামলা চালাতে এসে আর ফিরে যাননি। থেকে গিয়েছিলেন এই সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলায়। মহিষাদল রাজবাড়ির সদস্যরা এক সময়ে উত্তর প্রদেশ থেকে এ রাজ্যে এসেছিলেন। হাই কোর্টের কাছে একটি রাস্তা পরিচিত ডঃ কিরণশঙ্কর রায় রোড নামে। জানেন কি কে এই কিরণশঙ্কর রায়। কীই বা অবদান তাঁর আমাদের সমাজে? বাংলার এক বিখ্যাত স্বর্ণবিপণির মালিকদের পূর্বপুরুষ জাহাজ থেকে মাল খালাসের ঠিকাদার হিসেবে জীবন শুরু করেছিলেন। কাকদ্বীপের স্যান্ড হেড থেকে জলে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে গিয়ে জাহাজ আগে ছুঁতে পারলেই মিলত বরাত। এই বাংলার বিখ্যাত ও স্বল্পখ্যাত বহু বনেদি পরিবারের অন্দরমহলের খবর জোগাড় করে দুই মলাটে বন্দি করেছেন লেখক সাংবাদিক স্বস্তিনাথ শাস্ত্রী। পড়তে শুরু করলে শেষ না করে ছাড়তে পারবেন না।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি