বঙ্গ ইতিহাসের সোনার খনি মুর্শিদাবাদ
অরূপ চন্দ্র
মুর্শিদাবাদ জেলাঞ্চলে কমপক্ষে ছ'টি প্রাচীন মহানগরের সন্ধান পাওয়া যায়। যেগুলিতে চার পাঁচটি রাজবংশ দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা হিসাবে সমগ্র পূর্বভারত শাসন করেছে। স্বভাবতই বঙ্গ ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল মুর্শিদাবাদ দীর্ঘকাল ধরে। বঙ্গের আর কোন অঞ্চল এত দীর্ঘকাল ধরে বঙ্গদেশ শাসনের কেন্দ্রে থাকেনি। শুধু শাসন নয়- ভাষা, সংস্কৃতি, শিল্পকলা সমস্ত কিছুরই কেন্দ্রে থেকেছে মুর্শিদাবাদ জেলাঞ্চল।
প্রত্নতত্ত্বের দিক থেকেও মুর্শিদাবাদ জেলাঞ্চলের প্রাচীনতা বঙ্গের যে কোন অঞ্চলের চাইতে প্রাচীন। পুরাতত্ত্বের দিক থেকে একটি অতি সমৃদ্ধ অঞ্চল। নৃতত্ত্বের দিক থেকেও বলা যায় অসংখ্য জনজাতির বাস এই মুর্শিদাবাদ জেলাঞ্চলে। প্রাচীন অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় জনজাতি ছাড়াও বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জনজাতি এবং তাদের বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতির সমাবেশ ঘটেছে এই মুর্শিদাবাদে। কেন অতীত কালের রাজারা মুর্শিদাবাদ জেলাঞ্চলের এলাকাটিতে রাজধানী স্থাপনে এতটা আগ্রহী ছিল তাও জানা যায়। এই অঞ্চলেই হাজার বছর আগে প্রথম কৃষক বিদ্রোহ সংগঠিত হয়। তার আগে ভারতের বা পৃথিবীর কোথাও সংগঠিত কৃষক বিদ্রোহ সম্ভবতঃ হয়নি। ভারতের মধ্যে প্রথম শ্রমিক শ্রেণি ও পুঁজিপতি শ্রেণির জন্ম হয় মুর্শিদাবাদে। ইতিহাস পাঠক ও গবেষকদের কাছে তাই মুর্শিদাবাদ হল সোনার খনি।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি