বাংলা সাহিত্যে নিয়তিবাদ
প্রণব মিত্র
প্রথম প্রকাশ : বইমেলা ২০২৬
প্রচ্ছদ : ন্যায়বিচার ও প্রতিশোধের গ্রিক দেবী Nemesis...
প্রচ্ছদ রূপায়ণ : সৌজন্য চক্রবর্তী
মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সারা জীবনের ঘটনাপ্রবাহ পূর্ব নির্ধারিত, অর্থাৎ ভাগ্যের অমোঘ লিখনই তার জীবনের নিয়ন্তা, নাকি মানুষ আপন ইচ্ছাশক্তি ও কর্মোদ্যম, এক কথায় পুরুষকার, দ্বারা তার জীবনের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম- এইটি মানবমনের এক চিরন্তন অমীমাংসিত প্রশ্ন। হিন্দুদের শাস্ত্রগ্রন্থে জন্মান্তরবাদ ও কর্মবাদ স্বীকৃত। নিয়তিবাদের ভিত্তি এই দুই তত্ত্বে নিহিত। মনে করা হয় মানুষের বারংবার জন্ম ও মৃত্যু হয়। পূর্ব পূর্ব জন্মের শুভাশুভ কর্মের ফল তাকে পরবর্তী জন্মগুলিতে ভোগ করতে হয়। অর্থাৎ, পূর্বাপর জীবনের কর্মফলই পরবর্তী জীবনে অন্ধ নিয়তি হয়ে দেখা দেয়। বর্তমান বইটির মূল বিষয় নিয়তিবাদ ও বাংলা সাহিত্যে (এবং বিশ্বসাহিত্যে) তার প্রতিফলন।
সাতটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত এই গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ে ভাগ্য, নিয়তি, ভবিতব্য, অদৃষ্ট, দৈব ইত্যাদি বাংলা শব্দ ছাড়াও ইসলামি ভাষা, গ্রীক, ল্যাটিন, আইরিশ, চীনা এসব ভাষার অনেক অদৃষ্টবাচক শব্দের সূক্ষ্ম অর্থপার্থক্য ব্যবহারিক প্রয়োগের দৃষ্টান্ত দিয়ে বিচার করা হয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে সুদুর অন্ধকার অতীতে আদিম মানুষের মানসিকতায় নিয়তিবাদের উদ্ভব বিকাশ ও বিশ্বজনীনতা আলোচিত হয়েছে।
তৃতীয় অধ্যায়ে নিয়তিবাদের পৌরাণিক ও দার্শনিক ভিত্তি বিভিন্ন পুরাণ-কোরাণ-বাইবেল-পাশ্চাত্য দার্শনিকদের রচনা থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি-সহ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
চতুর্থ অধ্যায়ে নিয়তিবাদের সার্থক প্রয়োগে বিশ্বের নানা ভাষায় রচিত চিরায়ত সাহিত্যের অনেকানেক দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে।
শেষ তিনটি অধ্যায়ে প্রাক্-ঊষা যুগ থেকে উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত শত শত বছরের বাংলা সাহিত্যে নিয়তি ভাবনার বিস্তারের এক অতি দীর্ঘ কালানুক্রমিক পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
শেষ কথাটি হল, এই বৃহৎ গ্রন্থে সাহিত্যে নিয়তিবাদের প্রতিফলন আলোচনায় যে অসামান্য সাহিত্য পরিক্রমা পরিবেশিত হয়েছে তা নিঃসন্দেহে দারুণ উপভোগ্য।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি