বই-ই জীবন বই-ই জগৎ
সবিতেন্দ্রনাথ রায়
'বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখতেন সাদা ফুলস্ কেপ কাগজে। আমি 'ইছামতী' উপন্যাস তাঁকে এই কাগজেই আগাগোড়া লিখতে দেখেছি। ঘাটশিলায় থাকতেন। সাপ্তাহিক কিস্তিতেই পাণ্ডুলিপি পাঠাতেন। ওই সাদা ফুলসকেপ কাগজেই মুড়ে সুতো বেঁধে নাম লিখে পাঠাতেন আমাদের ঠিকানায় - বেয়ারিং ডাকে। বলতেন, পোস্টাফিস নিজের গরজেই বেশি টাকা ডাকখরচ আদায় করে ঠিক দিয়ে যাবে। এ রেজিস্ট্রির থেকেও নিশ্চিত। আশ্চর্যের ব্যাপার, একটা কিস্তিও হারায়নি। গোটা উপন্যাসটাই ওইভাবে পাঠিয়েছিলেন ঘাটশিলা থেকে। বিভূতিভূষণের হাতের লেখাও কোনও কোনও জায়গায় বেশ দুষ্পাঠ্য হত, বিশেষ করে 'ই' অক্ষর। একমাত্র গজেন্দ্রকুমার মিত্র ওঁর সব লেখা পাঠোদ্ধার করে দিতেন।
তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায় লিখতেন সাদা কাগজে, শেফার্স কলমে, মাটিতে ডেস্ক পেতে। আমি তখন তাঁর আত্মীয় বা কুটুম্ব হয়ে গিয়েছি। সাহস করে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি প্রথম জীবনেও এইভাবে লিখতেন? এই দামি সাদা কাগজে আর শেফার্স কলমে।
তারাশঙ্কর বাবু বলেছিলেন, পাগল নাকি? তখন থাকি কালীঘাটে মনোহরপুকুর রোডে, টিনের ঘর। রাস্তার টাইম কল থেকে নিজেই বালতিতে জল ধরে নিয়ে আসি। তাতেই নিজে চা তৈরি করে খাই, তাতেই স্নান। আর দু'বেলা পাইস হোটেলে খাওয়া। কোথায় তখন এ সব কাগজ কেনার পয়সা আর শেফার্স কলম। সাদা দিস্তা কাগজ কিনে আনি আর সস্তার কলমে লিখি। কালি ভরে।'
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি