দুর্গাপুজোয় যুগান্তর
সংকলন ও সম্পাদনা : দেবায়ন চৌধুরী
"আমাদের এক বন্ধু বললেন এবারে অর্ধেক পুজো হয় কিনা সন্দেহ। কিন্তু সমস্ত রকম অনুমান, আশঙ্কা এবং কারুর কারুর আশাকে নস্যাৎ করে দিয়ে, আশ্বিনের মাঝামাঝি উঠিল বাজনা বাজি! খবর এল কুমোরটুলি থেকে, কাজ সেখানে পুরো দমে চলেছে, নিঃশ্বাস ফেলবার সময় নেই তাদের। গতবারের তুলনায় মনে হল পুজো কমই হবে, বিশেষ করে হঠাৎ হঠাৎ গজিয়ে ওঠা সর্বজনীন দুর্গাপুজোগুলো, কারণ পুলিস আগেই বললেন এবারে কিন্তু রাস্তা অবরোধ করে পুজো করবার অনুমতি দেওয়া হবে না! আর কোলকাতায় রাস্তা অবরোধ করা ছাড়া আর গতি কোথায়? তাই পুজো এবারে কম হবে, তেমন আনন্দ হবে না, চারিদিকে বিষাদে ছেয়ে যাবে এ সমস্ত মনে হয়েছিল; স্বাভাবিকভাবেই মনে হয়েছিল।
কিন্তু দুর্গা সত্যিই আনন্দময়ী। তিনি এই বন্যা-এই দুর্দশার মধ্যেও এলেন একেবারে ঘোড়ায় চড়ে। কোলকাতায় এবারে পুজো হবে অন্তত হাজার। যার যেমন সামর্থ্য-যেভাবে চাঁদা উঠেছে সেভাবেই পুজো হবে। হবে উৎসব। তাই, দোকানে দোকানে ভীড়-দু-একটি অঞ্চল ছাড়া, যেমন এবার কলেজ স্ট্রীট পাড়াটায় তেমন কেনা-বেচা হয়নি, সর্বত্রই সাড়া পাড়ছিল। সেই বাসে-ট্রামে ভীড়, ট্যাকসি না পাওয়া, জিনিসপত্র নিয়ে বিপর্যস্ত। সেই কেনা, বদলানো, ফেরত দেবার নানা হাঙ্গামা, পুজো বোনাস, পুজোর জুতো, শাড়ি রেকর্ড আরো কত কি! আনন্দময়ীর আগমনে আনন্দে গিয়েছে দেশ ছেয়ে।
এটার একটা প্রয়োজন আছে। একদিকে দুঃখ বিভীষিকা, যা আমাদের চিরসঙ্গী, এর জন্য পূজোকে বাতিল করাটা চলে না নিশ্চই। গত মহাযুদ্ধে লণ্ডনে যখন শত্রুপক্ষের হাজার হাজার বোমা পড়ছে, বাড়ি ভাঙ্গছে, পুড়ছে, মানুষজন আহত হচ্ছে, মরে যাচ্ছে সেই সময়ে লণ্ডনের একটি পরিপূর্ণ থিয়েটারে হাসির নাটক হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যায় কিছু নেই বরং সেই সময় নিজেদের মনকে সুস্থ রাখবার ওটাই একটা উপায় ছিল। আমাদেরও এই পুজোও তাই। সমস্ত বছরের নানারকম দুঃখকে এই পুজো বোধ হয় ভারসাম্য রক্ষা করে। তবে, এর মধ্যেও একটা 'কিন্তু' আছে।"
---- পুজোর চিন্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা, হিমানীশ গোস্বামী
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি