গৌড়াধিপতি রামপাল চরিত
মহুয়া চৌধুরী
প্রচ্ছদ : ইন্দ্রনীল ঘোষ
রাজ্য তৃতীয় বিগ্রহপালের মৃত্যু পরবর্তী কালের বঙ্গদেশ এই উপন্যাসের পটভূমি। পালসাম্রাজ্যের অতীত গৌরব তখন ম্লান। শত্রুর আক্রমণে রাজ্যসীমা সঙ্কুচিত হয়ে এসেছে। যুদ্ধপটু ও শিক্ষিত কৈবর্ত জাতির বিপুল প্রতাপ। বিচিত্র পরিস্থিতির প্রভাবে বিগ্রহপালের কনিষ্ঠ পুত্র রামপাল সিংহাসনের বসেছেন। কিন্তু রামপালের একমাত্র লক্ষ্য ছিল পালবংশের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করা। রামপাল মাতুল বংশের সহায়তায় কৈবর্তদের দমনের পরিকল্পনা করেন। তিনি সামন্ত রাজাদের সঙ্গে সম্মিলিত ভাবে কৈবর্তদের বিরুদ্ধে গৌড়চক্র নির্মাণ করেন। এই সম্মিলিত শক্তির সামনে প্রচণ্ড যুদ্ধের শেষে কৈবর্ত রাজ ভীম পরাস্ত হন। তাঁকে যুদ্ধে বন্দি ও পরে হত্যা করা হয়। সমস্ত বারেন্দ্রভূমি পালরাজ্যের অধিকারে আসে। রামপাল বর্তমান যশোরের নিকটে রামাবতী নামে নূতন রাজধানী স্থাপন করেন। নিজ বংশের অতীত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে তিনি অনেকখানি সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর মনের তৃপ্তি স্থায়ী হয় না। এরপরে নিয়তির নিষ্ঠুর আঘাত নেমে আসে তাঁর জীবনে। রাজপরিবারে একটির পর একটি মৃত্যুর প্রবাহ বয়ে যায়। শেষে রামপাল নিজের সমস্ত ব্যক্তিগত ঐশ্বর্য দান করে রামাবতী থেকে মুদগগিরির পুরানো রাজধানীতে আসেন ও ভাগীরথীর স্রোতে আত্মবিসর্জন দেন। রামপালই ছিলেন এই বংশের শেষ প্রভাবশালী রাজা।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি