জে. রবার্ট ওপেনহাইমার : বিংশ শতাব্দীর পারমানবিক যুগের বিস্ময়
পরমেশ চন্দ্র শীল
প্রাক-পারমাণবিক, পারমাণবিক এবং বর্তমান যুগে চলমান পারমাণবিক গবেষণার অন্যতম নাম জে. রবার্ট ওপেনহাইমার পারমাণবিক বোমার জনক। তাঁর কৃষ্ণগহ্বর এবং নিউট্রন তারার ওপর গবেষণাও বিশ্বে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে বিজ্ঞান চর্চার বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে হিন্দু ধর্মগ্রন্থাদি, গীতা ও পুরাণ প্রভৃতির প্রতি তাঁর তীব্র আসক্তি আজও সমানভাবে আলোচিত ও সমালোচিত। ব্যক্তিজীবনের রোমান্টিকতা, প্রেম-বিবাহ-ভালোবাসা; পাশাপাশি কত-না ট্র্যাজেডি , তাঁর জীবনকে বৈপরীত্যময় বৈশিষ্ট্যের সৃজনে করে তুলেছিল বহুবর্ণরঞ্জিত; বৈচিত্র্যময়। কমিউনিজমের আদর্শের প্রতি আনুগত্যের কারণে ম্যানহাটন প্রকল্পে যোগদানের সঙ্গে সঙ্গেই এফ. বি. আই ও আমেরিকান পারমাণবিক শক্তি কমিশন -এর যৌথ আক্রমণ নেমে আসে। ফলে ১৯৫৪ সালে তাঁকে একটি ট্রাইব্যুনালের সামনে দাঁড়াতে হয়। তাঁর সুরক্ষার ছাড়পত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে গ্যালিলিওর মতো এক শহিদ ব্যক্তিত্বে পরিণত করা হয়। এফ. বি. আই -এর রোষের বলি হয়ে তাঁর কন্যা টনি-ও আত্মহননে বাধ্য হন। তাঁর বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনের বিভিন্ন ধাপে আইনস্টাইন থেকে আবদুস সামাদ-এর মতো বিভিন্ন বিজ্ঞানী সহ অনান্য পেশার মানুষজনের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ সংযোগকথাও এখানে আলোচিত হল। মহান এই বিজ্ঞানীর প্রতি এক বিজ্ঞানকর্মীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার স্মারক এই গ্রন্থ।
লেখক সম্পর্কে :
পরমেশ চন্দ্র শীল কলকাতার বসু বিজ্ঞান মন্দিরের (বোস ইন্সটিটিউট) একজন বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে সাম্মানিক স্নাতক ও ভৌত রসায়নে স্নাতকোত্তর। এরপরে কলকাতার বসু বিজ্ঞান মন্দিরে গবেষণায় হাতেখড়ি। গবেষণা শেষে রসায়নে ডক্টরেট (পি.এইচ.ডি.) ডিগ্রি প্রাপ্তি। তারপর উচ্চতর গবেষণার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহায়ো প্রদেশের দ্য ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকে যোগদান। ১২ বছর পর দেশে ফিরে বসু বিজ্ঞান মন্দিরে এসোসিয়েট প্রফেসার হিসেবে যোগদান।। স্কুল জীবন থেকে কবিতা লেখায় হাতেখড়ি। বর্তমানে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ ও কবিতায় তাঁর সাবলীল চলাচল। ইতিমধ্যেই নানা স্বাদের প্রবন্ধ ও কবিতা প্রকাশিত হয়েছে পত্রপত্রিকায়। বর্তমানে তাঁর দুটি কবিতা ও একটি প্রবন্ধের বই প্রকাশিত।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি