কিশোর চতুর্দশী
নয়ন বসু
প্রচ্ছদ : রাজীব দাস
একজন সদ্যোজাত শিশু বড় হয়ে বিস্ময়বালক কি বালিকা হতে পারে, সচিন তেন্ডুলকর, এ আর রহমান, মাদার টেরেসা এমনকী, রবীন্দ্রনাথও হতে পারে। তার পর সাত -আট বছর বয়স হয়ে গেলে তাকে প্রডিজি অথবা বিস্ময়বালক কি বালিকা বলা যাবে না। ষোলো বছরে সে যদি জাতীয় দলে জায়গা না পায় তা হলে তাকে আর সচিন তেন্ডুলকর বলা যাবে না। আঠেরো বছরে নান না হলে খুব সম্ভবত সে আর মাদার টেরিজা হবে না। তিরিশ বছরের মধ্যে গোটা পৃথিবীকে সুর দিয়ে জয় না করতে পারলে খুব সম্ভবত সে আর এ আর রহমান হতে পারবে না। বাহান্ন বছর বয়সে নোবেল না পেলে খুব সম্ভবত সে আর রবীন্দ্রনাথ হতে পারবে না। এই যে আমরা বলি বড় হওয়া, এটা আসলে একটু একটু করে একটা একটা করে সম্ভাবনার দরজা বন্ধ হতে হতে যাওয়া। তাই একজন শিশু মানে অনেক সম্ভাবনা। তার সামনে খোলা আকাশ, নিজেকে ব্যাপৃত করার জন্য গোটা ভুবন পড়ে আছে। রামধনুর সাতটা রং ওকে রাঙিয়ে দেওয়ার জন্য রেডি, তাদের অনন্ত মাত্রা নিয়ে। তাই ওদের গল্পেও সেই ছড়িয়ে পড়া রঙের ছোঁয়া থাকে। সেখানে কখনও হলুদ, কখনও সবুজ, কখনও লাল, কখনও নীল। কখনও আবার ধূসরও। ছোট বলে মন খারাপ করতে নেই এমন কথা কোথাও লেখা নেই। নয়ন বসুর কিশোর চতুর্দশী বইয়ের গল্পগুলোও তেমনিই। নানা রঙের। সেখানে ভয়, মজা, মন খারাপ, কল্পবিজ্ঞান, ভূত, রূপকথা—কী নেই! আর সব চেয়ে বেশি আছে মায়া। শিশুরা তো শুধু শিশু নয়, মায়ার শরীর ওদের, মনটা পরিষ্কার ইজেলের মতো। যেখানে একদিন দোল খেলবে সুর, শব্দ, ছন্দ, মায়া আর ভালোবাসা। আর ওদের আকাশে ফুটবে জলছবির মতো সুন্দর একটা রামধনু। সেই দেশেরই সুলুক সন্ধান আছে নয়ন বসুর কিশোর চতুর্দশী বইটিতে। চোদ্দ রকমের চোদ্দটি গল্প। হাসি, কান্না আর মায়ায় অনন্ত সম্ভাবনায় ভরপুর। ওদের অপেক্ষায়।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি