লাল চিনার পাতা
(কাশ্মীরি পণ্ডিত বিতারণের ওপরে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস)
দেবশ্রী চক্রবর্তী
চিনারের পাতা যখন শুঁকিয়ে যায়, তখন তা লাল রক্তবর্ণ ধারণ করে। নভেম্বরের শেষ সময় থেকেই এই শুঁকনো পাতা উড়ে গিয়ে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পরে। ঠিক যেভাবে ১৯৯০ সালে কাশ্মীর উপত্যকা থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন কাশ্যপ ভূমির ভূমিপুত্র কাশ্মীরি পন্ডিতেরা। ১৯৯০ সাল থেকে শুরু হল কাশ্মীরি পণ্ডিত খেদাও অভিযান, মিছিল জমায়েত থেকে আওয়াজ উঠতে লাগলো – “না রা য়ে তক দির, আল্লা হো আকবর”। পণ্ডিত মহল্লায় হামলার সময় মসজিদের মাইকে আজানের আওয়াজ বহু গুন বাড়িয়ে দেওয়া হল যাতে আর্তনাদ, চিৎকার বাইরে শোনা না যায়। স্লোগান দেওয়া হতে লাগলো – “হাম ক্যা চাহতে আজাদি কিংবা অ্যায় জালিমো, অ্যায় কাফিরোঁ, কাশ্মীর হমারা ছোড় দো”। হ*, অপ*রণ, লুটপাট, মহিলাদের রে* কোনো কিছুই বাদ গেলো না, ১৯৯০ সালের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ পণ্ডিত পরিবার হল কাশ্মীর ছাড়া। বেশিরভাগ আশ্রয় পেল জম্মুতে তৈরি হওয়া আশ্রয় শিবিরে আর বাকিরা ছড়িয়ে পড়ল ভারতের অন্যান্য শহরে। জম্মুর হাঁসফাঁস করা গরমে নোংরা বস্তির এক চিলতে তাঁবুতে কোনোমতে সংসার, সরকারের দেওয়া রেশনের চাল-ডাল নিয়ে কোনোরকমে ক্ষুন্নিবৃত্তি। এক সময়ে যাঁদের আপেলের বাগান ছিল, দেওদার কাঠের বহুমুল্য আসবাব ছিল তারাই জম্মুতে চরম অসম্মানের জীবনযাপন করে চলেছেন।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি