নতুনগ্রামের কাঠের কাজ : শিল্প ও শিল্পীর সন্ধান
শ্যামসুন্দর বেরা
কাঠ বা দারুশিল্পের প্রবহমান ঐতিহ্যের মধ্যে কি রয়ে গেছে প্রাচীন সভ্যতা সংস্কৃতির চিহ্ন? হরপ্পা-মহেঞ্জোদাড়োয় প্রাপ্ত পোড়ামাটির শিলমোহরে নানান ধরনের নকশা ও জীবজন্তুর চিত্র থেকে কি অনুমান করা যায় যে অনুরূপ নকশাযুক্ত কাঠের আসবাব, কপাট ইত্যাদি তৈরি হত আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর আগেও? সহজলভ্য, নমনীয় অথচ প্রাণবন্ত-কাঠ যুগ যুগ ধরে শিল্পীর হাতের স্পর্শে হয়ে উঠেছে ভাবনার বাহক। সেই ধারারই এক অনন্য অধ্যায় নতুনগ্রামের কাঠের পুতুল। লোকশিল্পের ঘরানায় নতুনগ্রামের পুতুলশিল্প আজ স্বতন্ত্র পরিচয়ে উজ্জ্বল। কাঠের প্যাঁচা, দুর্গা কিংবা গৌরনিতাই-রঙের দীপ্তি ও গঠনের ছন্দে তারা যেন নিঃশব্দে গল্প বলে। কাঠের পুতুল তৈরি করেই এই গ্রামের শিল্পী পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার। তবে শুধু কাঠের পুরুলে খিদে মেটে কই? পুতুলের সীমিত কদর আর জীবিকার টানাপোড়েন শিল্পীদের বাধ্য করেছে পুতুলের অবয়বেই গড়ে তুলতে আসবাবের নতুন রূপ। কর্মহীনতার অন্ধকারে পাঁড়িয়ে নতুনগ্রামের তরুণ প্রজন্ম বুঝে নিয়েছে-নিজেদের শিকড় আঁকড়ে ধরলে সম্ভব স্বনির্ভরতা। প্রথা ও নতুন ভাবনার মিলনে নতুনগ্রামের কাঠের কাজ আজ আর শুধু অতীতের স্মারক নয়, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশও।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি